Home / on-scroll / এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার যেই হোক কাউকে ছাড় দেব না: খাদ্যমন্ত্রী

এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার যেই হোক কাউকে ছাড় দেব না: খাদ্যমন্ত্রী

1472201632খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, সকল অনিয়ম দূর করে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচীকে স্বচ্ছ কর্মসূচী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই কর্মসূচীতে অনিয়ম যেই করুক, তিনি দলের এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচীতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনিয়ম অভিযোগের প্রেক্ষিতে খদ্যমন্ত্রী কারমরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে এসব কথা বলেন।

দেশব্যাপী দুঃস্থদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ক্ষেত্রে শুরু থেকেই নানারকম অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন জেলায় দুঃস্থ বা গরিবের  বদলে অবস্থাপন্ন বা ধনী ব্যক্তিরাই চাল পাচ্ছেন। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে কামরুল ইসলাম বলেন, তালিকা তৈরিতে অনিয়ম, ওজনে কম দেওয়াসহ ডিলার নিয়োগের ব্যাপারেও বিভিন্ন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তালিকা তৈরির ব্যাপারে অনেক হতদরিদ্রকে বাদ দিয়ে অবস্থাপন্নদের নাম তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। এমন নানা অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে।

ইতোমধ্যেই কমপক্ষে ২৫টি জেলায় এ ধরণের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কামরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি ১০ টাকা দরে চাল বিতরণ কর্মসূচীকের দলীয়করণ করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকার অনিয়মে জড়িতদের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চাল বিতরণ কর্মসূচীর পাশাপাশি জেলা প্রসাশক, রিজিনাল কন্ট্রলার অব ফুড ও কেন্দ্রীয়ভাবে আলাদা আলাদা মনিটরিং টিম করা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আটক করার ব্যবস্থা করেছি। তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। কোন অবস্থাতেই এই কর্মসূচীকে দলীয়করণ করার কোন সুযোগ দেব না। এ ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা যেখানেই অভিযোগ পাচ্ছি সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

এ পর্যন্ত যতটুকু অভিযোগ এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে কর্মসূচীটি নিয়ে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। আপনারা কী আগে থেকেই কোন পদক্ষেপ বা কঠোর পরিকল্পনা নিয়ে কর্মসূচীতে নামেন নি?

প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কর্মসূচীর পুরোটাই বিশৃঙ্খল অবস্থায় জরাজীর্ণ- তা আমি স্বীকার করি না। কয়েকটি জেলায় তালিকা তৈরি ক্ষেত্রে, ডিলারশীপের ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম হয়েছে। সে অনিয়মগুলোকে আমরা দূর করার চেষ্টা করছি। এটা নিয়ে সমস্ত বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে- এটা বলা যায় না।

মন্ত্রী  জানান, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এবং মার্চ, এপ্রিল- এই ৫ মাস দেশের ৫০ লক্ষ পরিবারকে বছরে ৫ মাস ১০ টাকা দরের চাল বিতরণ করা হবে এবং এই চাল বিতরণ কর্মসূচী যেকোন মূল্যে দরিদ্রবান্ধব করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এবং এই কর্মসূচি স্বচ্ছ করতে অনিয়মে অভিযুক্তদের ডিলারশীপ বাতিলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তালিকা সংশোধ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.