Home / জাতীয় / গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আজ ফিরছেন খালেদা

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আজ ফিরছেন খালেদা

চিকিৎসা শেষে তিন মাস দুই দিন পর আজ বুধবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।

তবে বিদেশে থাকা অবস্থায়ই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। অবশ্য গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

তা ছাড়া খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না গতকাল এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরোয়ানা হাতে এলে এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

এদিকে দলীয় প্রধানকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনাসভায় বলেছেন, আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই জামিন নেবেন। খালেদা জিয়া আসার পরের দিন আদালতে যাবেন বলেও তিনি জানান।

খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) চেয়ারপারসন দেশে ফিরবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তাঁর (খালেদা) গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছে না বিএনপি। তার পরও যদি সরকার সেই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভুল করবে।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, দেশে ফেরার পরদিন ১৯ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার তারিখ আছে। সেদিন অসুস্থতাজনিত কোনো সমস্যা না থাকলে অবশ্যই তিনি আদালতে হাজির হবেন।

তবে বিএনপি সূত্রগুলো বলছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি না হলেও ২২ অক্টোবরের মধ্যে ফিরতেন খালেদা জিয়া। কারণ আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনের সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে আসছেন। তাঁর সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক হওয়ার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।

বিএনপির কূটনৈতিক বিষয়াদি দেখভাল করেন এমন এক নেতা জানিয়েছেন, সুষমা স্বরাজের সঙ্গে খালেদা জিয়ার এক ঘণ্টার বৈঠক হতে পারে। এখন পর্যন্ত দিনক্ষণ না জানালেও বৈঠক যে হবে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সে রকম প্রস্তুতিও রয়েছে বিএনপির।

দলটির একটি সূত্র অবশ্য বলছে, সুষমা স্বরাজ যেদিন ভারতের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন ওই দিন দুপুরে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনে এই বৈঠক হতে পারে।

শোডাউনের প্রস্তুতি : খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার খবরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে চেয়ারপারসনকে বরণের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। আজ বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে নেতাকর্মীদের বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার অভ্যর্থনা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার তৈরি করছে বিএনপি ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। ঢাকা মহানগর বিএনপির দুই অংশের নেতারাই দুই দিন ধরে সভা করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। একইভাবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও জোরালো প্রস্তুতি নিয়েছে।

ঢাকার আশপাশের জেলা গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও শোডাউনে অংশ নিতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন জানান, দীর্ঘদিন পর চেয়ারপারসন দেশে ফিরছেন। তাঁকে বরণ করে নিতে তাঁরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছেন।

আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে খালেদা ফিরছেন—মওদুদ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) আইন ও আদালতকে সম্মান দেখানোর জন্য ওনার চিকিৎসার কিছুটা অংশ বাদ দিয়ে দেশে চলে আসছেন; শুধু আইন-আদালতের প্রতি তাঁর সম্মানবোধ আছে বলেই। তিনি আসবেন এবং পরের দিন উনি কোর্টে যাবেন। ’

মওদুদ বলেন, ‘নিয়ম হলো, কারো বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে আসামি যদি আবার আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন, সঙ্গে সঙ্গে ওয়ারেন্ট সেখানেই শেষ হয়ে যায় এবং জামিনও আবার পুনর্বহাল হয়। এটাই আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া। ’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি : কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় মওদুদ এসব কথা বলেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ‘সত্য কথা’ বলে মন্তব্য করেন মওদুদ। তিনি বলেন, ‘সিইসির এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেসব বক্তব্য এখন আসছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অর্থাৎ তারা (সরকারি দল) সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সিইসিকে নিয়ে যেসব সমালোচনা হচ্ছে—এসব একই মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। ’

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর তদন্তভার দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেওয়া আইনসম্মত হয়নি বলে মনে করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী।

সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আলোচনাসভায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি আবুল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করতে হবে, এমন নয়—আইজিপি : গতকাল রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনেছি, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কিন্তু তা এখনো থানায় পৌঁছেনি। ’

আইজিপি বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে, বিষয়টি এমন নয় বলে আমি মনে করি। যেহেতু খালেদা জিয়া একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে তা নয়, এটি আদালতের বিষয়। ফাইল হয়েছে শুনেছি, আমরা এখনো কোনো পরোয়ানা পাইনি। তিনি নিশ্চয়ই আদালতের নির্দেশ মান্য করবেন। ’

বিএনপির শোডাউনের ব্যাপারে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘ওনাকে (খালেদা জিয়া) সংবর্ধনা জানানো হবে শুনেছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে আমরা বাধা দিতে পারি না। কেউ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট না করলে দেশে আসতে বা কোথাও যেতে পুলিশ বাধা দেবে না। ’

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। সেখানে ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন করেন তিনি। লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই এই সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁর ফেরা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। আর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তিনি আর ফিরবেন না—এমন আলোচনাও শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুটি মামলায় গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার দুটি আদালত। এর আগে বাসে পেট্রলবোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগের মামলায় ৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ দলটির ৭৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার একটি আদালত। সূত্র: কালের কণ্ঠ

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.