Home / খেলাধুলা / ঘাম ঝরানো ১০ খেলার তালিকায় টেনিস, নেই ফুটবল!

ঘাম ঝরানো ১০ খেলার তালিকায় টেনিস, নেই ফুটবল!

a83ক্লান্তি। যে কোনও খেলার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এই শব্দ। তা সে ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিসই হোক বা ব্যাডমিন্টনের মতো ইন্ডোর গেমস। এমন কী দাবার মতো খেলা, যেখানে মাথার কাজটাই প্রধান, সেখানেও মানসিক ভাবে তো বটেই শারীরিক ভাবেও চূড়ান্ত ক্লান্ত হয়ে ওঠেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু সব খেলাই কি সমান পরিশ্রমের? অবশ্যই না। খেলার শেষে খেলোয়াড়দের কতটা ক্যালোরি কম হয়, তা মাপার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও রয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সবচেয়ে ঘাম ঝরানো ১০ খেলা কোনগুলি।

আয়রনম্যান ট্রায়াথেলন: বিশ্বের অন্যতম ইভেন্ট যেখানে প্রতিযোগীরা সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হন। প্রায় ৪ কিলোমিটার সাঁতারের পর ১৮০ কিলোমিটার বাইক রাইড এবং তার পর ৪২ কিলোমিটারের ফুল ম্যারাথন। মিনিটে ১৪ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয়ের পাশাপাশি ৩০ মিলিলিটার ঘাম ঝরে অ্যাথলিটদের।

রোড সাইক্লিং: সাইক্লিং যে কতটা পরিশ্রমের তা বাজার করতে সাইকেল নিয়ে বেরনোর সময়ে বোধহয় আমাদের খেয়ালও থাকে না। কিন্তু দিনের পর দিন চলতে থাকা রোড সাইক্লিং অ্যাথলিটকে একেবারে নিংড়ে নেয়। মিনিটে ১৪ ক্যলোরি শক্তি ক্ষয় হয় এই খেলায়। ঘাম ঝরে প্রায় ৩৫ মিলিলিটার।

ম্যারাথন: বিশ্বের অন্যতম শ্রমসাধ্য খেলা ম্যারাথন। ২৬.২ মাইলের এই রেস শেষই করতে পারেন না অনেকে। বহু বার ফিনিশিং লাইন শেষ করার পর প্রতিযোগীদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালে। মিনিটে ১৭ ক্যালোরির বেশি শক্তি ক্ষয় হয় এই রেসে। ঘাম ঝরে মিনিটে ৪০ মিলিলিটার।

ক্রস কান্ট্রি স্কিয়িং: স্কিয়িং করা দেখে মনে হয় খুব রিল্যাক্সড একটা গেম। কিন্তু স্কিয়িং যে কতটা পরিশ্রমের, তা প্রমাণে একটা তথ্যই যথেষ্ট। ২০১৪র শীতকালীন সোচি অলিম্পিকে ফিনিশিং লাইন পেরনোর পর প্রথম তিন স্থানাধিকারীই অজ্ঞান হয়ে যান। মিনিটে প্রায় ১৭ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয় স্কিয়ারদের। প্রায় ২৫ মিলিলিটার ঘাম ঝরে প্রতি মিনিটে

আইস হকি: ৬০ মিনিটের এই খেলায় ২০ মিনিটের তিনটে হাফ থাকে। এতটাই পরিশ্রমের এই খেলা যে, কোনও খেলোয়াড়ই ৩০ মিনিটের বেশি মাঠে থাকতে পারেন না। এক থেকে দু’মিনিটের মধ্যে খেলোয়াড় বদলের রেওয়াজও আখছার দেখা যায়। প্রতি মিনিটে প্রায় সাড়ে ১২ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয়। ঘাম বের হয় ৪০ মিলিলিটার।

অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল: আদতে রাগবির মতো হলেও এই খেলার নিয়ম কিছুটা আলাদা। ৮০ মিনিটের এই খেলায় মিনিটে প্রায় ১১ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয়। ঘাম বের হয় ৩০ মিলিলিটার।

বক্সিং: ২০ বর্গফুটের রিঙের এই লড়াইকে বলা হয় বক্সারদের টাফনেসের সর্বোচ্চ পরীক্ষার মঞ্চ। তিন মিনিটের সর্বোচ্চ ১২টা পর্যন্ত রাউন্ড খেলা হতে পারে একটি ম্যাচে। প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয় একটি ম্যাচে। মিনিটে প্রায় ৩০ মিলিলিটার ঘাম বেরিয়ে যায় এক জন বক্সারের শরীর থেকে।

বাস্কেটবল: বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির খেলাগুলির অন্যতম। ৪০ মিনিটের খেলায় খেলোয়াড়দের বেশির ভাগ সময়েই লাফাতে হয়। এতে মারাত্মক পরিশ্রম হয়। ৪০ মিনিটের এই খেলায় মিনিটে ৯.৪ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয়। প্রতি মিনিটে ২০ মিলিলিটার ঘাম ঝরে শরীর থেকে।

ওয়াটার পোলো: দেখে মনে হয় অত্যধিক ধীর গতির খেলা। দুই দলের ১৪ জন জল কাটিয়ে ধীরে ধীরে গোল করতে যায়। ওয়াটার পোলো কিন্তু মারাত্মক কষ্টকর খেলা। এতে প্রতি মিনিটে প্রায় ১২ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয়। মিনিটে প্রায় ১০ মিলিলিটার ঘাম বেরিয়ে যায় এক জন ওয়াটার পোলো খেলোয়াড়ের শরীর থেকে।

রোয়িং: অন্যতম পরিশ্রমের এই খেলায় পেশির ব্যবহার এতটাই বেশি হয় যে, রোয়ারদের কেরিয়ার খুব বেশি দিনের হয় না। রোয়িং ৫-৮ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। এতে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫ ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয়। মিনিটে প্রায় ৩০ মিলিলিটার ঘাম বেরিয়ে যায় এক জন রোয়ারের শরীর থেকে।

ফুটবল: ফুটবলকে খুব পরিশ্রমের খেলা বলে মনে হলেও এ ক্ষেত্রেও সেই একই কথা খাটে। ফুটবলাররা টানা ৯০ মিনিট দৌড়ন না। কখনও তারা জগিং করছেন, কখনও বা স্রেফ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তবুও ৯০ মিনিটে গড়ে এক জন ফুটবলারের এক হাজার ক্যালোরি খরচ হয়। প্রথম দশের তালিকায় নেই ফুটবলও।

টেনিস: টেনিস খেলতে ঠিক কতটা পরিশ্রম হয়, সেটা কোর্টে না নামলে বোঝা যায় না। সেটের মাঝে একাধিক ব্রেক মেলায় কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। ১৯৮০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যতগুলি উইম্বলডন ম্যাচ খেলা হয়েছে তার গড় করলে দেখা যায় প্রতি ম্যাচের আয়ু প্রায় আড়াই ঘণ্টা। এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ সময় বল খেলার মধ্যে থাকে। সেই অনুয়ায়ী গড়ে ২৭০ ক্যালরি খরচ হয় এক জন খেলোয়াড়ের। তবে তালিকায় প্রথম দশে নেই টেনিস।

Check Also

আজ পারবে কী বাংলাদেশ!

প্রত্যাশার কমতি ছিল না ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে। টেস্ট সিরিজে বাজেভাবে হারের পরও সীমিত ওভারে গত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.