Home / জাতীয় / চার নেতার ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ সেলের সামনে নির্বাক মানুষের ঢল

চার নেতার ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ সেলের সামনে নির্বাক মানুষের ঢল

a224‘এতোদিন শুধু ইতিহাস পড়ে জেনেছি এবং মানুষের মুখে শুনেছি, কারাগারের ভেতরে চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আজ সেই সেলটির সমানে দাঁড়িয়ে এমন নৃশংসতা বিশ্বাস হয় না। কিভাবে এমন দেশপ্রেমিক মানুষের বুকে ঘাতকরা গুলি চালিয়েছে! তাদের ধিক্কার জানাই। এসব ঘাতকদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত।’

নাজিম উদ্দিন রোডের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থী জেমন আহমেদ অরন্য এভাবেই কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ২২৮ বছরের ঐতিহাসিক পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার দুর্লভ আলোকচিত্র নিয়ে বুধবার কারাগারের ভেতরে প্রদর্শনী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। আলোকচিত্রের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার সেল দেখারও সুযোগ ছিল দর্শনার্থীদের। উদ্বোধনের দিন ব্যাপক মানুষের ঢল নামে। এমনকি অনেকেই টিকিট না চলে যেতে বাধ্য হন।

শুধু অরণ্যই নয়, কারাগার ও আলোকচিত্র প্রদর্শন করতে আসা অনেকেই তাদের অনুভুতির কথা জানিয়েছেন। অরণ্যের সঙ্গেই এসেছেন তার ৮ সহপাঠি। অরণ্য বলেন, ‘খবর পেয়েই ছুটে এসেছি। জেলখানার ধারণা আগে যেমন ছিল তা এখন পাল্টে গেছে। বুঝার চেষ্টা করছি, বন্দিরা এখানে কিভাবে ছিলেন।’

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার সেলটির সামনে দাঁড়িয়ে অরণ্যের বেদনার্ত প্রশ্ন, ‘মানুষ কীভাবে এতো নৃশংস হয়! দেশের গুরুত্বকপূর্ণ ব্যক্তিদের এভাবে হত্যা করলো?’ অরণ্য জানান, বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাকে হত্যার সেলটি আরও ভালো করে সংরক্ষণ করা উচিৎ। সব সময় সবার জন্য উন্মুক্ত করলে আরও ভালো।

জাতীয় চার নেতাকে কারাগারের যে সেলে হত্যা করায় সেটিকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী শহীদ স্মৃতি কক্ষ’ নামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেলটি পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধা জসীম উদ্দিন বলেন, ‘এটা উন্মুক্ত করায় ভালো হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। আমাদের নেতারা যে কত কষ্ট করেছেন। তা চোখে দেখে নতুন প্রজন্ম উপলব্ধি করবে।’

তিনি মনে করেন, আরও বৃহৎ পরিসরে এই প্রদর্শনীর বিষয়টি প্রচার করা ও সময় আরও বাড়ানো উচিত। তাহলে আরও বেশি মানুষ আসতে পারবে।

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম রাফি। বাবা নজরুল ইসলামের সঙ্গে কারাগার দেখতে এসেছে। রাফি বলে, ‘আমিই বাবাকে এখানে নিয়ে আসতে বলেছি। বন্দিদের সেল, চার নেতাকে হত্যার সেল ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটি দেখেছি। ভয়াবহ সব দৃশ্য! গুলিচিহ্ন এখনও রয়েছে। আমরা দুঃখ লাগছে। আমার বন্ধুরাও আসবে। সবাইকে আসতে বলব এখানে।’ রাফি জানায়, টিকিটের মূল্য আরও কম হলে ভালো হতো।

বাবা একেএম হোসেনের হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ আলোকচিত্র দেখছিল পাঁচ বছরের মারিজ সিনতাহা উমামা। স্কুল শেষ করে বুধবার দুপুরে বাবার সঙ্গে কারাগারে আসে সে। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ছবি দেখেই সে চিনতে পেরেছে। যে ছবির বিষয়বস্তু সে বুঝতে পারছিল না, বাবা ঘটনার বর্নণা করে তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এরকম অসংখ্য দৃশ্য চোখে পড়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে আমাদের স্বাধীনতা এসেছে। এই কারাগার তার সাক্ষী। এটিকে আরও ভালো করে সংরক্ষণ করা দরকার।’

এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যখন প্রতিবেদকের কথা হয় তার সহপাঠি রবিউল্লাহ ছিল পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, ‘২২৮ বছরের ইতিহাস আমাদের অনেক কিছুই মনে করিয়ে দেয়।’ রবিউল্লাহ মনে করেন, এখানে আসলে মানুষের দেশপ্রেম বৃদ্ধি পাবে।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.