Home / জাতীয় / চার মাসের পরীক্ষায় বাতিল সাত হাজার সিলিন্ডার

চার মাসের পরীক্ষায় বাতিল সাত হাজার সিলিন্ডার

a116তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সাত হাজারের বেশি সিলিন্ডার গত চার মাসে বাতিল করেছে সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড কোম্পানি। মেরামত করেছে পাঁচ হাজারের বেশি সিলিন্ডার। এই সময়ের মধ্যে প্রায় দেড় লাখ সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানটি। এলপি গ্যাস প্রধানত বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।

এলপি গ্যাস লিমিটেড সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুলাই থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ২৮৯টি পুরোনো সিলিন্ডার বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা এসব সিলিন্ডার দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে চার টুকরো করে বিক্রি করা হবে। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ হাজার সিলিন্ডার বাতিল করার পাশাপাশি দিনে গড়ে ২০০টির বেশি সিলিন্ডারের ভালভ পরিবর্তন (মেরামতের বাইরে) করা হয়েছে।

গত ২০ আগস্ট বগুড়ায় বিপিসির উত্তরাঞ্চলীয় এলপিজির ডিপোতে সিলিন্ডার নামানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৩০০টি সিলিন্ডার ও তিনটি ট্রাক পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম তাঁর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন, বিপিসির উত্তরাঞ্চলের ডিপোতে মজুত করা সিলিন্ডারের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। তখন মন্ত্রণালয় থেকে বিপিসিকে সবগুলো গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারিভাবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরার দায়িত্ব এলপি গ্যাস লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে। একটি চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায়, অন্যটি সিলেটের কৈলাসটিলায়। দুটি প্ল্যান্টে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার পাশাপাশি সিলিন্ডার পরীক্ষাগারও রয়েছে। সারা দেশে সরকারি সিলিন্ডারের সংখ্যা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে ৩০ বছরের পুরোনো সিলিন্ডারও রয়েছে। একটি সিলিন্ডারের মেয়াদ কত দিন হবে, তা সিলিন্ডারের মানের ওপর নির্ভর করে।

এলপি গ্যাস লিমিটেড সূত্র জানায়, প্রতিদিন চট্টগ্রামের প্ল্যান্টে গড়ে ৪ হাজার ও কৈলাসটিলার প্ল্যান্টে ২ হাজারের বেশি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হয়। গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারগুলো বিপিসির তিন বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

দুই মাস আগে বগুড়ায় বিপিসির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর সেখানকার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের তিনটি ডিপোতে মজুত করা সিলিন্ডারগুলো পরীক্ষা করেছিলেন বিস্ফোরক অধিদপ্তরের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম। গত শনিবার তিনি মুঠোফোনে বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০০ সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হয়েছিল। বাহ্যিকভাবে ও সিলিন্ডারের মুখে পানি দিয়ে পরীক্ষা করে অধিকাংশ সিলিন্ডারে বুদ্বুদ উঠতে দেখা গেছে। ওই পরীক্ষায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সিলিন্ডারকে প্রাথমিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ মনে হয়েছে। বেশির ভাগেরই ভালভে সমস্যা ছিল। এসব উল্লেখ করে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান দপ্তরে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

বিপিসির সিলিন্ডারের অধিকাংশ ত্রুটিপূর্ণ—এ কথা মানতে নারাজ এলপি গ্যাস লিমিটেডের কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ফজলুর রহমান খান বলেন, ‘বিস্ফোরকের পরিদর্শক কী বলেছেন, সেটি আমার জানা নেই। পরীক্ষা ছাড়া বিপিসির কোনো সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হয় না। বগুড়ার ঘটনাটি ছাড়া গত চার দশকে সরকারি সিলিন্ডারে দুর্ঘটনার নজির নেই। বগুড়ার দুর্ঘটনার জন্য সিলিন্ডারের ত্রুটি দায়ী নয়। ট্রাক থেকে সিলিন্ডার ছুড়ে মারার কারণে একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষে আগুন ধরে গিয়েছিল।’

ফজলুর রহমান খান বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব সিলিন্ডার পরীক্ষা শেষ হবে। তখন প্রয়োজন অনুযায়ী আরও নতুন সিলিন্ডার আনা হবে।

গত বৃহস্পতিবার এলপি গ্যাসের পতেঙ্গার প্ল্যান্টে গিয়ে দেখা যায়, বাতিল করা সিলিন্ডার কারখানা ভবনের বাইরে সারি করে রাখা হয়েছে। এর পাশে মেরামতযোগ্য সিলিন্ডারগুলোতে রং করা হচ্ছে। আবার কোনোটার ভালভ পরিবর্তন করা হচ্ছে।

এলপি গ্যাসের কর্মকর্তাদের দাবি, সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার আগে সেটি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর গ্যাস ভরে কোনো লিকেজ (ছিদ্র) রয়েছে কি না, সেটিও দেখা হয়। একটি সিলিন্ডার কত দিন ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে এলপি গ্যাস বিধিমালায় কিছু উল্লেখ করা নেই।

নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলোর নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক বদিউস সালাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভোক্তাদেরও সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। চুলার পাশে গরম স্থানে না রেখে একটু দূরত্বে সিলিন্ডারগুলো বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সরকারি হিসাবে, দেশের এলপি গ্যাসের বাজারের প্রধান অংশ বেসরকারি খাতের হাতে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিলিন্ডারের সংখ্যা সরকারি সিলিন্ডারের চার গুণ বেশি।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.