Home / খেলাধুলা / তামিমদের আবার হারিয়ে সাকিবরা ১ নম্বর

তামিমদের আবার হারিয়ে সাকিবরা ১ নম্বর

a629ঢাকা ডায়নামাইটসকে এক পর্যায়ে বেশ চাপেই ফেলেছিল চিটাগং ভাইকিংস। কিন্তু হেভিওয়েট লড়াইয়ে তামিম ইকবালদের রানটা কম হয়ে গিয়েছিল।
অধিনায়ক তামিম ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু দল ৬ উইকেটে করেছে মোটে ১৩৪। এমন বড় ম্যাচে জেতার স্কোর না। সেটা প্রমাণ করেই সাকিব আল হাসানের ঢাকা তুলে নিয়েছে ৬ উইকেটের জয়। ১৮.২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৫ হয়ে গেছে। এবারের বিপিএলে চিটাগংকে দুবারই হারাল ঢাকা। ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্টে প্লে অফের ১ নম্বর জায়গাটি নিশ্চিত করলেন সাকিবরা। আর কোনো দলের ১৬ পয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
চিটাগং ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে শেষ চারে যাওয়ার পথেই থেকে গেল। কিন্তু শেষ ম্যাচের পর জানবে কয় নম্বরে তারা। শুক্রবার এই ম্যাচে তামিম একা রান করেছেন। শোয়েব মালিক কেবল ৩৩ রান দিতে পেরেছেন। আর কোনো ব্যাটসম্যানের দুই অংকের রান নেই। এই একটি জুটি ছাড়া আর কোনো জুটি নেই। কিন্তু ঢাকা চাপে পড়েও জুটি গড়েছে। কুমার সাঙ্গাকারা (৩৫ বলে ৩৫) প্রাথমিক চাপ সামলেছেন। পরে আন্দ্রে রাসেল ও আলাউদ্দিন বাবু মিলে ৫টি ছক্কা মেরেছেন। রাসেলের ছক্কা গুলো বিশাল, দেখার মতো। বাবু ২৭ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত। রাসেল ১৮ বলে ঝড় তুলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেছেন ৩১ রানের হার না মানা ইনিংস।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম এই সন্ধ্যায় দর্শকে ঠাসা। দুই হাই প্রোফাইল দলের লড়াই দেখতে এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দর্শকের সমাগম। কিন্তু মন ভরলো কোথায়! টানাটান উত্তেজনা বা দারুণ রোমাঞ্চের দেখা মেলেনি। শেষের দিকে রাসেল-বাবুরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেও রাখেননি চিটাগংকে।
৫৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল ঢাকা। মেহেদী মারুফ (৯), নাসির হোসেন (১৩), মোসাদ্দেক হোসেন (৯) নেই। সাকিব কি প্লে অফের আগে দলের ব্যাটিং গভীরতা মেপে দেখলেন! ৬ ব্যাটসম্যান নামলেন। তিনি নামলেন না! সাঙ্গাকারা চাপ সামলেছেন। ছোটো ছোটো জুটি গড়েছেন। শেষে রান আউট।
এরপর ঝড়ের মুখে চিটাগং। সাঙ্গাকারার বিদায়ের সময় ৪৩ বলে আর ৫২ রান দরকার ঢাকার জিততে। কাজটা ৩৩ বলে সেরে ফেললেন রাসেল ও বাবু। ৫২ রানের অবিচ্ছিন্ন উইকেট জুটি তাদের। তবে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা আরেক ক্যারিবিয়ান ঢাকারই ডোয়াইন ব্রাভো।
এর আগে টস জিতে সাকিব ব্যাটিংয়ে পাঠান তামিমদের। ক্রিস গেইলের ব্যাটিং শুরুতেই দেখতে পাবেন ভেবে দর্শকরা খুশি। কিন্তু ৬ বলে ১ রান করে গেইলের বিদায়। স্বদেশী রাসেল শিকারী। আসলে চিটাগংয়ের ৬ উইকেটই ক্যারিবিয়ান বোলারদের। এনামুল হক (০) হলেন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা হনসফোর্ড বিটনের শিকার। ১৭ রানে ২ উইকেট থেকে ৩৩ এ গিয়ে তৃতীয় উইকেট হারায় চিটাগং। এবার জহুরুল ইসলামকে (৬) শিকার করেন ডোয়াইন ব্রাভো।
দারুণ বিপদ। এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন তামিম। পাকিস্তানি শোয়েব মালিককে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু ১০ ওভারে ৪৫ রান চিটাগংয়ের! কোথায় রানের ফুলঝুরি হবে। সেখানে প্রথম ৬০ বলে একটা ছক্কাও নেই। কিন্তু হাত খোলেন তামিম। ৮৬ রানের জুটি হয় শোয়েবের সাথে।
তারপরই পতন। আবার ক্যারিবিয়ান আঘাত। পরপর দুই বলে যথাক্রমে ফেরেন শোয়েব ও তামিম। হনসফোর্ড তার দ্বিতীয় শিকার বানান ২৫ বলে মূল্যবান ৩৩ রান করা শোয়েবকে। পরের বলটি ব্রাভোর। রাসেল ক্যাচ নিলেন। তামিম ফেরেন। ৫৯ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৪ রান তার। মোহাম্মদ নবিকে ওই ওভারের পঞ্চম বলে ব্রাভো শূণ্য হাতে ফিরিয়ে দেন।
১৭ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৯ থেকে হঠাৎই ধ্বংসস্তুপ চিটাগংয়ের ইনিংস! মাত্র ৬ বলের মধ্যে সেরা তিন ব্যাটসম্যান নেই। ৬ উইকেটে ১২১! শেষ দুই ওভারে রাসেল ও সাকিব চাপ ধরে রাখলেন। বেশিদূর আর যাওয়া হলো না চিটাগংয়ের। ৩ উইকেটর ব্রাভোর, ২টি রনসফোর্ডের, ১টি রাসেলের। এত অল্প রান নিয়ে আর প্রতিশোধ নেওয়া হয় না তামিমদের। আবার শেষ হাসি সাকিবদের।

Check Also

আজ পারবে কী বাংলাদেশ!

প্রত্যাশার কমতি ছিল না ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে। টেস্ট সিরিজে বাজেভাবে হারের পরও সীমিত ওভারে গত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.