Home / আন্তর্জাতিক / তীরে এসেই কী তবে ডুবছে হিলারির তরী?

তীরে এসেই কী তবে ডুবছে হিলারির তরী?

a97মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটন এমন ধারণা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের দৌঁড়ে বেশ পিছিয়ে থাকা ট্রাম্প ভালো ভাবেই ঘুরে দাড়িয়েছেন। হিলারি ও ট্রাম্পের ব্যবধান এখন মাত্র ২ পয়েন্টের। সর্বশেষ তিনটি জরিপেই হিলারি ও ট্রাম্পের সমর্থনের পার্থক্য ধারাবাহিক ভাবে কমছে।

প্রচারণার শুরু থেকেই বিতর্কিত মন্তব্য করে সবসময়ই বিতর্ককে পিছু লাগিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে হিলারির বক্তব্য সবসময়ই জনমত জরিপে এগিয়ে রেখেছে হিলারিকে। তবে এতটা পথ এগিয়ে থেকেও হিলারি কেন ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছেন বা এত বিতর্কিত মন্তব্য করেও ট্রাম্প কেন এগিয়ে যাচ্ছেন? এভাবে পেছাতে থাকলে নির্বাচনের আগে হিলারির তরী যে ডুবে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই বিশ্লেষকদের।

হিলারির জনপ্রিয়তা কমার দুটি প্রধান হচ্ছে- প্রেসিডেন্ট ওবামার চালু করা স্বাস্থ্য নীতি। এই নীতি নিয়ে এমনিতেই উদ্বিগ্ন মার্কিন জনগণ। এই নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো অঙ্গরাজ্যে স্বাস্থ্য খাতে খরচ বেড়েছে অন্তত ২২ শতাংশ। এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনাও হয়েছে দেশজুড়ে।

প্রেসিডেন্ট ওবামার নেওয়া স্বাস্থ্য বিমা ‘ওবামা কেয়ার’ নীতির সঙ্গে একাত্মতাও ঘোষণা করেছেন হিলারি। এই নীতির সমর্থন করে তা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়ে হিলারি নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন এটি ‘হিলারি কেয়ার’। অন্যদিকে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে এই বিল বাতিল করবেন বলেও ঘোষণা দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা রাজনীতির মারপ্যাঁচে না গিয়ে ২২ শতাংশ খরচ কমানোর আশায় ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

হিলারির পথে আরেকটি কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ই- মেইল ফাঁস বিতর্ক। ইউকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ট্রাম্পের মেইল ফাঁস করলেও হিলারির মেইল ফাঁস করেননি বলে বার বার অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প। তবে নির্বাচনের আগে স্পর্শকাতর কোন কিছু নিয়ে তদন্তের রেওয়াজ যুক্তরাষ্ট্রে না থাকায় হিলারির মেইল নিয়ে তদন্তে ক্ষান্ত দিয়েছিল এফবিআই। এই পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল।

কিন্তু শনিবার (২৯অক্টোবর) হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই হিলারির মেইল তদন্তের ঘোষণা দেয়। নির্বাচনের সামনে এসে এফবিআইএর এই ঘোষণা হিলারির জন্য বেশ অস্বস্তিকর। ইতিমধ্যে হিলারি ও তার সমর্থকরা এফবিআইএর এই ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি বলেছেন তারা কংগ্রেসকে বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন। কোমি বলেছেন, মার্কিন জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চান না তিনি।

হিলারির সহকারি হুমা আবেদিনের সাবেক স্বামী এন্থনি উইনার। দুই মাস আগেই তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এফবিআই দাবি করছে, হিলারির ই-মেইল সার্ভার থেকে এন্থনি এবং হুমা ব্যক্তিগত ইমেল আদান-প্রদান করেছে। যাতে যৌন সুড়সুড়িমূলক বক্তব্য ছিল এবং এন্থনির মেইল থেকে নর্থ ক্যারোলিনার ১৫ বছরের একটি মেয়েকে যৌন হয়রানিমূলক ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছিল।

হিলারির এ ইমেল বিতর্ক নতুন নয়। এফবিআই প্রধান জেমস কমি বলছেন, এটা আগের তদন্তেরই ধারাবাহিকতা। আগেরবার তাকে শুধু সাবধান করে দিয়ে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি মোটেও সচেতন নন। আগের মেইলগুলো রাষ্ট্রীয় নিরাত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কিছু ছিল না। তবে এখন আরো সতর্কভাবে হিলারির ব্যক্তিগত ইমেইল আইডি থেকে যে মেইলগুলো আদান-প্রদান হয়েছে সেগুলোর তদন্ত হচ্ছে।

উপরোক্ত দুইটি ঘটনা ধীরে ধীরে হিলারি জনপ্রিয়তাকে কমিয়ে দিচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষমতার তীরে পৌঁছানোর আগেই হিলারির তরী তীরে ডুবে যাবে কিনা তাই নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

এবার বিষয় আলাদা। এবার তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী। তার বিপক্ষ প্রার্থী আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিদূষী ব্যক্তি। যে কিনা হিলারির একটু সমালোচনার সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। ট্রাম্প এই সুযোগে মাঠ গরম করছেন। নিউ হ্যাম্পশয়ারের একটি জনসভায় বলেছেন, এবার সুবিচার পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এফবিআইকে তিনি রাষ্ট্রের প্রধান দেশপ্রেমিক সংস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রচারণা দল।

এদিকে এফবিআইয়ের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বার্তা সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, কয়েক বছর আগেই এফবিআই হিলারির ই-মেইল তদন্ত শুরু করেছিল। তখন হিলারির অসহযোগিতায় নামকাওয়াস্তে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে এফবিআই। সেই প্রতিবেদনে ‘ক্রাইম অফেন্স’ না পাওয়ায় হিলারিকে নির্দোষ বলা হয়। তবে এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো এটি ক্রাইম কিনা সেই সিদ্ধান্ত এফবিআই নিজেই নিয়েছিল।

অথচ সেই প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য বা বিচার করার এখতিয়ারই ছিল না এফবিআই এর। যে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল সেই কর্তৃপক্ষের কাছেও জমা দেয়া হয়নি। এটি এফবিআইএর একটি বড় অপকর্ম ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই অপকর্ম ঢাকতেই তড়িঘড়ি আবার হিলারির মেইল তদন্তের ঘোষণা দিল এফবিআই, এমন অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারীর পরেই হিলারির ইমেইলের বিষয়টি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কেলেঙ্কারী বলে মনে করেন। শনিবার কলোরাডোতে এক জনসভায় তিনি বলেন হিলারির ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করাটা ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও বক্তব্য দেন।

হিলারি বলছেন, নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে এফবিআই যে তার ইমেইল তদন্ত করছে তা অদ্ভুত। এসবই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। মার্কিনীরা খুব দ্রুত এর সত্যতা জানতে চায়। তিনি সারাজীবন দেশের জন্য কাজ করেছেন। জনগণ এসব অপ্রচার বিশ্বাস করবে না। এফবিআই আর কিছুই পাবে না। এ ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

Check Also

রাখাইন সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ দখলে নিচ্ছে চীন

মিয়ানমারের রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিচ্ছে চীন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর বিষয়ে ইতোমধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.