Home / জাতীয় / দর্শনার্থীদের সবার আগ্রহ ফাঁসির মঞ্চে

দর্শনার্থীদের সবার আগ্রহ ফাঁসির মঞ্চে

a310ফাঁসির মঞ্চ। নিঃসন্দেহে ভয়ঙ্কর একটি জায়গা! যেখানে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় দেশের জঘন্য ও কুখ্যাত সব আসামিদের। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রদর্শনীতে আসা ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রায় সব দর্শনার্থীর জিজ্ঞাসা একটাই। কোথায় সেই ফাঁসির মঞ্চ?

সরেজমিনে প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের ভীড়। একে একে মহিলা ওয়ার্ড আমদানি সেল, কারা সেলুন, বন্দিদের গোসলের জায়গা, রান্নার জায়গা, ফাঁসির সেল, বিদেশি বন্দিদের সেল ঘুরে ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। এ সময় জেলখানার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভিতরে ছবি তোলেন অনেকেই।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেলফি তুলে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। মুখে মুখে ছিল ফাঁসির মঞ্চ কোথায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক জানান, সব ঘুরে ঘুরে দেখে ভালো লাগল। ফাঁসির মঞ্চ দেখার অনেক ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কারা কতৃপক্ষ এটা দেখার ব্যবস্থা করেননি। শুধু আংশিক দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুফরানা ইসলাম জানান, কারাগারে এসে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন হলো। আর কারাগারের ভিতরে যে এত সুন্দর থাকে এমনটা তার মতো অনেকেরই জানান ছিল না। দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন কারারক্ষী জানান, প্রথম দিন থেকেই প্রায় সব দর্শনার্থীই ফাঁসির মঞ্চ দেখতে চেয়েছেন। কিন্তু সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ফাঁসির মঞ্চ এখনো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।

আয়োজকরা জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪ হাজার শিশু- কিশোর কারা প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। প্রায় সব দর্শনার্থীই ফাঁসির মঞ্চ দেখতে চায় বলে জানান তারা। তবে বিগত দিনগুলোর চেয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। সারাদিনে ১৬শ টিকিট বিক্রি করেছে বলে জানান দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার জীবন নিয়ে কারা অধিদফতর ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জার্নির উদ্যোগে ‘সংগ্রামী জীবনগাঁথা’ শীর্ষক চলমান আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি আজ সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলবে। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার জীবন নিয়ে দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে মোট ১৪৫টি দুর্লভ ছবি প্রদর্শিত হয়।

গত ২ নভেম্বর সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য খুলে দেওয়ার পর ৫ দিনে শিশুসহ প্রায় ১৬ হাজার দর্শনার্থী আসে কারাগারটিতে। এর বাইরে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার-পরিজন কারাগারটি পরিদর্শন করেছেন। কারাগারটি পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে গত শুক্রবার দুপুর একটা থেকে শনিবার সারাদিন পূর্বনির্ধারিত এ প্রদর্শনিটি বন্ধ রাখা হয় ।

উল্লেখ্য, এই কারাগারে বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় দীর্ঘবছর কারাভোগ করেন। কারাগারে আটক পিতা বঙ্গবন্ধুকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তার মায়ের সঙ্গে হাত ধরে অসংখ্যবার এসেছেন ঐতিহাসিক ও দেশের সবচেয়ে পুরাতন কারাগারটিতে। ১৭৮৮ সালে তৎকালীন শাসকদের দ্বারা একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৮১৮ সালে রাজবন্দিদের আটকার্থে বেঙ্গল বিধি জারি করা হয়।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.