Home / on-scroll / দল শক্তিশালী করতেই মন্ত্রীরা কমিটিতে নেই

দল শক্তিশালী করতেই মন্ত্রীরা কমিটিতে নেই

14915607_925760464235200_6196922371773608519_nমন্ত্রণালয় সামলানোর পাশাপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে দল চালানোর গুরুদায়িত্ব। তবে তাঁর নিত্যদিনের রুটিন বদলায়নি। এখনো ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। এরপর সংসদ ভবন এলাকায় হাঁটাহাঁটি করেন। সে সময়ই মোবাইল ফোনে সড়ক বিভাগ, বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। এরপর বাসা হয়ে যান দলের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে। সেখানকার কাজ সেরে সকালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ছোটেন মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে। গত রবিবার সেখানেই কালের কণ্ঠের মুখোমুখি হন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রণালয়ের গ্রন্থাগার কক্ষে বসে আলাপকালে দল, নতুন কমিটি, মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন, সাংগঠনিক সফরসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

গত ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ওবায়দুল কাদের। ইতিমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ৮১ সদস্যের মধ্যে ৭৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার ৫১ সদস্যের মধ্যে কমিটিতে ঠাঁই হয়েছে মাত্র ১০ জনের। কমিটিতে নতুন মুখ এসেছে ৩৬ শতাংশ।

নতুন কমিটি নিয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আপনার মূল্যায়ন কী—জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এর চেয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভালো কমিটি আর হয়নি। এ কমিটিতে সব দিক, সব অঞ্চল কাভার করা হয়েছে। এখানে প্রতিশ্রুতিশীলদের আনা হয়েছে। দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে সক্ষমতার দিক বিবেচনা করে। আওয়ামী লীগের ট্র্যাডিশনের সঙ্গে টেকনোলজির সমন্বয় করে নতুন রক্ত সঞ্চালন হয়েছে এ কমিটিতে। কমিটিতে যাঁদের রাখা হয়েছে তাঁদের ত্যাগ আছে, অভিজ্ঞতাও আছে।

মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্যই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাননি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা মন্ত্রিত্ব করছেন। সেটা তাঁদের ভালোভাবে করতে দেওয়া উচিত। তাঁরা তাঁদের কাজটি ভালোভাবে করুন, সেটাই আমরা চাই। নির্বাচনের বাকি আছে দুই বছর দুই মাস। এই কমিটির লক্ষ্য ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন তো এসেই যাচ্ছে। এই মন্ত্রীদের এখন নিজ নিজ এলাকায়ও তো যেতে হবে। তাই মন্ত্রীদের দলের কমিটিতে বড় দায়িত্ব থেকে বিযুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে উন্নয়নকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।’ তাঁর মতে, মন্ত্রীদের বাদ দেওয়ার মাধ্যমে কমিটিতে ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতাদের আনা হয়েছে দল শক্তিশালী করতে। কারণ সরকার শক্তিশালী হলে এবং দল দুর্বল থাকলে দল সরকারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে না। তাল মেলানোর জন্যই এটা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অনেক মন্ত্রী বাদ পড়ায় এখন কি মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে—এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মেয়াদের দুই বছর আগে সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ রিশাফল করা হয়ে থাকে। সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক করবেন। কে বাদ যাবে, কে যোগ হবে, কোথায় কোথায় পরিবর্তন হবে, তা তিনিই ঠিক করবেন। প্রধানমন্ত্রী কারো সঙ্গে শেয়ার করলে তা জানা যাবে। আমি এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারছি না। মন্ত্রিপরিষদের কারো ওপর নেত্রী অসন্তুষ্ট থাকতে পারেন, কারো ওপর খুশি থাকতে পারেন, সেটা তিনিই জানেন।’

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়েই থাকব : মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করা হলে তাতে আপনাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার একটা বার্তা শোনা যাচ্ছে। আসলে ঘটনা কী—জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী (খন্দকার মোশাররফ হোসেন) তাঁর মন্ত্রণালয় ভালো চালাচ্ছেন, তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার মানুষ। তিনি তাঁর কাজ বোঝেন। আমি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। সেখানে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলের মতো বড় বড় প্রকল্প আছে। এগুলোর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগুলোর কাজ এগিয়ে নিতে হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব সাহেব পুরনো। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমার ওপর চাপ বাড়ছে বলেই হয়তো তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’

আপনি নিজের দপ্তর থেকে মাঠে ছুটে বেড়ান। আপনার দায়িত্ব মহাসড়কে হলেও ঢাকা মহানগরীর রাস্তাও পরিদর্শন করতেন। কিন্তু এখন আর যাচ্ছেন না। সেটা কি মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য আপনার কর্মকাণ্ডে নাখোশ হওয়ায়? জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখতে আগে পরিদর্শনে যেতাম। যেতাম জনপ্রত্যাশার চাপেই। লোকজন চাইত, ফেসবুকে এটা-ওটা লিখত। তাদের দাবি, আমি যেন যাই। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুজন মেয়র দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁরাই মূলত ঢাকার রাস্তাঘাট দেখছেন। তাঁদের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হয়। ঢাকার কোনো রাস্তার খারাপ অবস্থা চোখে পড়লে তাঁদের তাৎক্ষণিক জানাই। তাঁরা উদ্যোগী ও উদ্যমী। আমার এখন আর যাওয়ার দরকার হয় না।’

প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন সার্বক্ষণিক লোক : ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি থেকে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে হয়েছেন জনপ্রিয় মন্ত্রী, দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পেলেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আসলে সার্বক্ষণিক লোক চেয়েছিলেন। আমি আগে দলের সাধারণ সম্পাদক না থাকলেও তাঁর সার্বক্ষণিক কর্মী ছিলাম। আমি শেখ হাসিনার হাতে গড়া কর্মী, ৩৫ বছর ধরেই তাঁর সঙ্গে আছি। তিনি (শেখ হাসিনা) ১৯৮১ সালে যখন স্বদেশে ফিরেছিলেন তখন আমি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আমি তাঁর লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। সামনের নির্বাচন ও জেনারেশন আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। সভানেত্রীর নির্দেশনা অনুসারে কাজের পরিকল্পনা করে দল গোছানো হবে।’

নতুন কমিটি হয়েছে। এখন দল গোছাবেন কিভাবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলে শৃঙ্খলা আনা হবে কঠোর হাতে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানে আছেন, আমাকে নির্দেশনাও দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে দলের শক্তিশালী টিমওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড শক্ত হাতে দমন করা হবে।’

আপনার কাজের চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে। তৃণমূল নেতাদের আগের মতো যথেষ্ট সময় দিতে পারবেন? জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা থাকবে। লাখ লাখ কর্মীর উচ্ছ্বাস ও স্বতঃস্ফূর্ততার বড় কারণ কী? কারণ তাদের আমি কাছে রিচেবল, এক্সেসেবল। আমি সুস্থ থাকলে এ অবস্থার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’

টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন ৬ নভেম্বর : এ মাস থেকেই সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন বলে জানালেন ওবায়দুল কাদের। বললেন, ‘৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এর মধ্য দিয়েই তো সফর শুরু হচ্ছে।’ কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন ডিসেম্বরে। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী। দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে, ছিটমহল হস্তান্তরিত হয়েছে। ছিটমহলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও হয়েছে। বহুদিনের বড় সমস্যার সমাধান হলে তিস্তার পানি নিয়েও সমাধান আসবে।’ ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থেই ভারত, চীন, জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া করলে চলে না। ২১ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে গড়ে ওঠা সন্দেহের দেয়াল আওয়ামী লীগ ভেঙে দিয়েছে। ভারত, নেপাল, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের জন্য বিবিআইএন চুক্তি হয়েছে। চীনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণের জন্য আছে বিসিআইএন। আমরা সম্পর্ক গড়ে তা সম্প্রসারণ ও রক্ষা করতে চাই।’

পদ্মা নিয়ে নতুন বই : দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় তিনি ছুটে যান কর্মযজ্ঞ দেখতে। এযাবৎ ১৬৪ বার প্রকল্প এলাকায় গেছেন। গত শুক্রবারও তিনি প্রকল্প এলাকা মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পরিদর্শন করেন। এ প্রসঙ্গ উঠতেই বললেন, ‘আমি বারবার পদ্মা দেখি। পদ্মা নদীর ক্যানভাস নিয়ে আমি একটি বই লিখছি। পদ্মা সেতু প্রকল্প দেখতে প্রকল্প এলাকায় ছুটে যেতে হয়। সেখানে রিসোর্টে প্রচুর বই আছে। কম্পিউটারও আছে। তবে নতুন একটা দায়িত্ব পেয়েছি। দায়িত্ব বেড়েছে। এ কারণে এ বই লেখা শেষ করতে পারব কি না জানি না।’ প্রসঙ্গত, ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন, লেখালেখিতেও সম্পৃক্ত। লিখেছেন ৯টি বই। কথার ফাঁকে সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়। যেন হঠাৎ মনে পড়ে গেছে এমন ভঙ্গিতে তিনি বলে ওঠেন, ‘আমার আরো একটা প্রোগ্রাম আছে।’ দ্রুত ছুটে যান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে। তখনো তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছে অনেকে। সূত্র: কালের কন্ঠ

 

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.