Home / আন্তর্জাতিক / দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে ভোটের নড়াচড়া

দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে ভোটের নড়াচড়া

a274আর মাত্র দুই দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই শেষ সময়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প চষে বেড়াচ্ছেন সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান খ্যাত ১৫টি অঙ্গরাজ্য। গত দুই সপ্তাহে জনসমর্থনে দুই প্রার্থী কাছাকাছি চলে আসায় ওই রাজ্যগুলোতেই বেশি নজর দিয়েছে দুই শিবির। এই অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটাররাই নির্ধারণ করে দেবেন, কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট। শেষ বেলায় সুইং স্টেটগুলোর ভোট ‘নড়াচড়া’ শুরু করেছে।

এসব রাজ্যে দুই প্রার্থীর তুমুল লড়াইয়ের আভাস মিললেও বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোসের সর্বশেষ জাতীয় জরিপ বলছে, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ৫ পয়েন্ট এগিয়ে। অর্থাৎ হিলারির পক্ষে ৪৪ শতাংশ ও ট্রাম্পের পক্ষে ৩৯ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। তবে অন্য কয়েকটি জনমত জরিপ বলছে, হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যে ব্যবধান ২-৩ পয়েন্টের মতো। সব জরিপের গড় করে রিয়াল ক্লিয়ার পলিটিকসের হিসাব বলছে, গত সপ্তাহে হিলারি গড়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও শুক্রবার তা গড়ে ২ পয়েন্টের নিচে নেমেছে। বিপরীতে ট্রাম্পের জনমত দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সুইং স্টেট  হচ্ছে সেসব অঙ্গরাজ্য যেগুলোর ভোটাররা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান দলের গোঁড়া সমর্থক নন, যাঁরা ভোটের আগ মুহূর্তে কাকে ভোট দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেন। এসব রাজ্যের মধ্যে ফ্লোরিডায় (২৯ ইলেকটোরাল ভোট) গত নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু এবার এই রাজ্যে হিলারি ও ট্রাম্প প্রায় সমান অবস্থানে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জরিপে হিলারি ৪৬ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪৫ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন।

রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ মতে, নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যেও (১৫ ইলেকটোরাল ভোট) দুই প্রার্থী প্রায় সমান সমান অবস্থানে। হিলারি ৪৮ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪৬ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন। কয়েক দিন আগেও হিলারি এই রাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে অন্তত ৬ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। এই রাজ্যে গত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি জয় পেয়েছিলেন। ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে হোয়াইট হাউসে যেতে চাইলে ট্রাম্পকে অবশ্যই এই রাজ্যে জয়ী হতে হবে।

ওহাইওতে (১৮ ইলেকটোরাল ভোট) হিলারির চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে ট্রাম্প; এ রাজ্যে ট্রাম্প ৪৬ শতাংশ ও হিলারি ৪১ শতাংশ। অথচ এই রাজ্যে গত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওবামা জয় পেয়েছিলেন।

দোদুল্যমান অন্য রাজ্যগুলোর মধ্যে অ্যারিজোনায় (১১ ইলেকটোরাল ভোট) হিলারির চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে ট্রাম্প। হিলারি ৪০ শতাংশ, ট্রাম্প ৪৫ শতাংশ। নিউ হ্যাম্পশায়ার (৪ ইলেকটোরাল ভোট) ও আইওয়াতে (৬ ইলেকটোরাল ভোট) হিলারি ও ট্রাম্প সমান সমান অবস্থানে, দুজনের পক্ষেই ৪৪ শতাংশ। মিশিগানেও (১৬ ইলেকটোরাল ভোট) হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান অনেকখানি কমেছে, এক সপ্তাহ আগে মিশিগানে হিলারি অন্তত ৫ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে পেনসিলভানিয়ায় (২০ ইলেকটোরাল ভোট) জনসমর্থন হিলারির দিকে ঝুঁকছে। এই রাজ্যে হিলারি ৪৮ শতাংশ, ট্রাম্প ৪৩ শতাংশ। গত সপ্তাহে দোদুল্যমান কয়েকটি রাজ্যে ট্রাম্প এগিয়ে যাওয়ায় হিলারির সঙ্গে তাঁর ব্যবধান কমে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।

রয়টার্সের তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৪টি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের সমর্থক বেড়েছে, কমেছে ১১টি অঙ্গরাজ্যে। অন্যদিকে ১৩টি অঙ্গরাজ্যে হিলারির সমর্থন বেড়েছে, কমেছে ২২টিতে।

এই নির্বাচনের শুরু থেকে প্রায় সব জরিপেই ট্রাম্পের চেয়ে অনেক পেছনে ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ভোটের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গত ২৮ অক্টোবর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই হিলারির ই-মেইল বিতর্কের বিষয়ে আবারও তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়। এর পরই বদলে যেতে থাকে সম্ভাব্য ভোটের চিত্র। অভিবাসী-মুসলিমবিদ্বেষী ও নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য, একের পর এক যৌন হয়রানি ও কর ফাঁকির অভিযোগ এবং টেলিভিশনে তিনটি প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে হিলারির কাছে পরাস্ত ট্রাম্প হঠাৎ করেই যেন চলে এলেন তীব্র প্রতিযোগিতায়। ই-মেইলগুলোতে আসলে কী আছে, তা এখনো না জানা গেলেও ভোটারদের অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাই কিছু কিছু জরিপ বলছে, যে হারে হিলারির জনপ্রিয়তা কমছে, তাতে জয়ীও হয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প।

ভয়ের বিপরীতে প্রত্যাশা বেছে নিন : ওবামা

আগামী ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে নির্বাচিত হলে অভিবাসী ও মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া ট্রাম্পের সমালোচনা করে হিলারিকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ভোট চাই। ভয়কে বেছে নেবেন না। আশা বেছে নিন। ভোটকেন্দ্রে যান। ভোট দিন। আপনারা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আমরা পুরো বিশ্বকে এ কথা মনে করিয়ে দিতে পারব যে আমেরিকা কেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি।’ শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনায় হিলারির পক্ষে এক নির্বাচনী সমাবেশে ওবামা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, হোয়াইট হাউস পরিচালনার মতো যোগ্য যদি কেউ থাকেন তিনি আমার বন্ধু হিলারি ক্লিনটন। অসাধারণ একজন প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি। আপনারা শুধু তাঁকে ভোট দিন।’

ওবামা বলেন, এ নির্বাচনে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল না। তিনি বলেন, ‘যে লোক নারীর প্রতি অবমাননা করেছেন, তিনি হোয়াইট হাউসে গেলে একই কাজ করবেন। যে লোক বর্ণবিদ্বেষের প্রতি সহানুভূতিশীল, বর্ণবিদ্বেষীদের সমর্থন পেয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে সেই লোক কী করবেন, একবার ভাবুন।’

ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া হবে মারাত্মক ভুল : হিলারি

শুক্রবার ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে হিলারির সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী মঞ্চে দেখা যায় এ সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বিয়োন্সকে। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডজয়ী এই শিল্পী হিলারিকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। বিয়োন্স বলেন, ‘আমার ভাগনে উজ্জ্বল কালো রঙের শিশু। সে এই বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছে যে একজন আফ্রিকান-আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। আমি এতে উজ্জীবিত বোধ করি! আমি চাই আমার মেয়ে এ কথা জেনে বড় হোক যে যুক্তরাষ্ট্রে একজন নারী প্রেসিডেন্ট আছেন।’

একই দিন হিলারি পেনসিলভানিয়ায়ও যান। সমাবেশে হিলারি বলেন, ‘প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই আমার পরিকল্পনার কথা আপনাদের বলেছি, কিভাবে আপনাদের আমি সাহায্য করব সে বিষয়ে জানিয়েছি। আপনাদের আশপাশে কেউ যদি ট্রাম্পকে ভোট দিতে চান, তাঁকে বোঝান যে এটা করলে তিনি মারাত্মক ভুল করবেন।’

একই দিন মিশিগানে সভা করেছেন হিলারি। সঙ্গে ছিলেন ধনকুবের মার্ক কিউবান। প্রচারে হলিউডের তারকারাও নেমেছেন। হিলারির স্বামী বিল ক্লিনটন যোগ দিয়েছেন কলোরাডোর প্রচারাভিযানে।

হিলারির কারণেই সিরিয়া ও ইরাক যুদ্ধ : ট্রাম্প

একই দিন নিউ হ্যাম্পশায়ারে নিজের নির্বাচনী সমাবেশে হিলারির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘যিনি (হিলারি) নিজের ই-মেইল ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারেন না, তিনি দেশ পরিচালনা করবেন কিভাবে?’ হিলারিকে আবারও অস্থিরমতি বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘হিলারির পররাষ্ট্রনীতির কারণে সিরিয়া ও ইরাকে আজ এই যুদ্ধ। রাশিয়ার সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করেছে যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে পৃথিবী। আমার পররাষ্ট্রনীতির মূলকথাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সবার ওপরে রাখা।’

সমাবেশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারির পক্ষে অনেকেই নামলেও আমি একা দাঁড়িয়ে আছি। আমার কাছে গিটার নেই। পিয়ানো নেই। কোনো তারকা আনারও প্রয়োজন নেই। শুধু ভোটারদের ভোট হলেই আমার চলবে।’ সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, এএফপি

Check Also

রাখাইন সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ দখলে নিচ্ছে চীন

মিয়ানমারের রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিচ্ছে চীন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর বিষয়ে ইতোমধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.