Home / জাতীয় / পানির পাম্প বন্ধ, কিন্তু মাসে মাসে বিদ্যুৎ বিল

পানির পাম্প বন্ধ, কিন্তু মাসে মাসে বিদ্যুৎ বিল

a303বরিশাল নগরের নাজির মহল্লা এলাকার পানির পাম্পটি বন্ধ হয়ে আছে পাঁচ বছর ধরে। কিন্তু মাসে মাসে পাম্পটির বিদ্যুৎ বিল যাচ্ছে নগর সংস্থার কাছে। একই অবস্থা নগরের গোরস্তান, ভাটিখানা ও আমানতগঞ্জ পাম্পসহ বন্ধ থাকা ১৫টি পাম্পের ক্ষেত্রে। বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া বিল পরিশোধের নোটিশ পাওয়ার পর কাগজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে নগর কর্তৃপক্ষের।

বিল সংশোধন করতে বলায় নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব লেগে যায় বিদ্যুৎ বিভাগের। এরপর অন্তত তিনটি পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিল বকেয়া থাকায় এ পাম্পগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নগর সংস্থার পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মনিরুল ইসলাম স্বপন কালের কণ্ঠকে জানান, নগরে পানি সরবরাহের জন্য সংস্থার ৪৬টি পাম্প রয়েছে। সবই বিদ্যুতচালিত। এর মধ্যে ১৫টি পাম্প গত পাঁচ বছর ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ সম্প্রতি নগর সংস্থাকে ২৭ কোটি টাকার যে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দিয়েছে তাতে ওই সব বন্ধ পাম্পগুলোরও বিল আছে।

a304প্রকৌশলী মনিরুল বলেন, ‘আমরা ওই বিল সংশোধন করতে বলেছি। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ তা না করে উল্টো তিনটি পানির পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।’ তিনি জানান, লালার দিঘির পার, খালেদাবাদ কলোনি ও পলাশপুর এলাকার পানির পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানি পাচ্ছে না। এ ছাড়া ওই এলাকার সড়কবাতিগুলোও বন্ধ রয়েছে।

তবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ টি এম তরিকুল ইসলাম সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সিটি করপোরেশনের কাছে ১৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ কারণে তাদের ১১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি সড়কের সংযোগ এবং খালেদাবাদ কলোনি ও লালাদিঘির পার এলাকার দুটি পানির পাম্পের সংযোগ রয়েছে।

ওজোপাডিকোর এই কর্মকর্তা বলেন, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তাঁদের কোনো শত্রুতা নেই। বকেয়া টাকা না দেওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে বিল নিয়ে যে ঝামেলা হয়েছিল সে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।

ওজোপাডিকো বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁরা সিটি করপোরেশনের কাছে ১১ কোটি টাকা পান। বারবার চিঠি, উকিল নোটিশ ও মাইকিং করার পরও করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি। তাই তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

তবে বন্ধ পানির পাম্পগুলোর বিল করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রকৌশলী আমজাদ বলেন, ‘হয়তো ভুল হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে এ কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি।’

আর পলাশপুর পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, ‘বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে ওই পাম্পটি বন্ধ রয়েছে। কিছু টাকা পরিশোধ করলেই বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হবে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ বন্ধ পানির পাম্পের নামেও বিল করেছে। আমরা বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। বিভাগীয় কমিশনার বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি নিয়ে বসার জন্য বললেও তারা রাজি হয়নি।’

মেয়র আরো বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ ভুল করেছে। তারা তাদের ভুল সংশোধন করে নতুন বিল করে দেবে। এরপর আমরা বিল পরিশোধ করব।’

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য আমরা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটি উভয়ের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করবে।’

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে যে ঝামেলাই থাক না কেন তিনটি পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করায় ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এ কারণে আগে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করা উচিত। এরপর তারা আইনিভাবে বিষয়টি বোঝাপড়া করে নেবে।’সূত্র: কালের কন্ঠ

 

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.