Home / on-scroll / প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: অবহেলা নাকি ষড়যন্ত্র

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: অবহেলা নাকি ষড়যন্ত্র

sheikh_hasina_111800gপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের ওয়েল (ইঞ্জিনে লুব্রিকেন্ট)প্রেসার কমে যাওয়ায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ইঞ্জিনে ওয়েল (লুব্রিকেন্ট) প্রেসার কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, একটি নাট-বোল্ট ঢিলে ছিল। নাট-বোল্ট ঢিলে থাকার কারণে বিমানটির বাম পাশের ইঞ্জিনের লুব্রিকেন্ট পড়ে গিয়ে প্রেসার কমে যায়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান উড্ডয়নের আগে একাধিকবার পরীক্ষা করার পরও নাট-বোল্ট ঢিলে থাকা সংশ্লিষ্ট কারও অবহেলা নাকি ষড়যন্ত্র, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় সোমবার বিমান, সিভিল এভিয়েশন ও মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে বিমানটি পর্যবেক্ষণ করেছেন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বিমানের জেনারেল ম্যানেজার শাকিল মেরাজ জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীসহ ৯৯ জনযাত্রী, চার জন ককপিট ক্রু, ২০ জন কেবিন ক্রু এবং চার জন এয়ারক্রাফ্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমানটিতে ছিলেন।

এ ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটা পরিষ্কার  একটি নাট ঢিলা থাকার কারণে ইঞ্জিনের লুব্রিকেন্ট ওয়েল পড়ে গিয়েছে। লুব্রিকেন্ট একেবারে পড়ে গেলে ইঞ্জিন শুকিয়ে যেত। তখন ঘর্ষণের ফলে ইঞ্জিনে আগুন লেগে যেতে পারতো। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এটি অবহেলা নাকি ইচ্ছাকৃত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সকাল নয়টায় বিমানটি টেকঅফ করে। চার ঘণ্টা ২৮ মিনিট পরে বিমানটি যখন তুর্কমেনিস্তানের আকাশ সীমানায় প্রবেশ করে, তখন পাইলট ককপিটের মনিটরে লক্ষ্য করেন যে,  বাম পাশের ইঞ্জিনে লুব্রিকেন্ট ওয়েলের প্রেশার কমে গেছে। এই বিমানটির সঙ্গে অপারেশন কন্ট্রোল রুমের কম্পিউটার সংযুক্ত। এই মেসেজ বাংলাদেশে  বিমানের অপারেশন কন্ট্রোল রুমে  আসে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১ টা ২৮ মিনিটে। পাইলট বিমানে বসে লিখলেই অপারেশন কন্ট্রোল রুমে  কম্পিউটারে রিয়েল টাইমেই চলে আসে। তখন এই তথ্য পেয়ে অপারেশন কন্ট্রোল রুম থেকে সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং টিম তখন কাছাকাছি বিমানবন্দরে দ্রুত ল্যান্ড করার পরামর্শ দেয়। দুপুর ২ টা ৮ মিনিটে পাইলট অপারেশন কন্ট্রোল রুমকে নিশ্চিত করেন যে, তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদ বিমান বন্দরে অবতরণ করবেন। বিমানটি দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে  আশখাবাদ বিমান বন্দরে অবতরণ করে। বিমানেই গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ছিল চারজন। তারা তখন সেখানে বিমানটির ত্রুটি অনুসন্ধান করে দেখেন লুব্রিকেন্ট ওয়েল পড়ে গেছে। তারা দেখতে পান চুয়ে চুয়ে পড়ার কারণে ইঞ্জিনের গায়ে  লুব্রিকেন্ট লেগে আছে। কোন স্থান দিয়ে লুব্রিকেন্ট পড়ছে খুঁজতে গিয়ে গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়াররা দেখতে পান, এক জায়গার একটি নাট ঢিলা হয়ে আছে। সেই নাটটি  টাইট করে গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়াররা আবার লুব্রিকেন্ট ভরে দেন। এরপর দুবার বিমানটি টেস্ট রান করে দেখা হয়, লুব্রিকেন্ট বের হচ্ছে কিনা।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট ছাড়ার দুই ঘন্টা পরে বিমানের লন্ডনগামী অন্য একটি সিডিউল ফ্লাইট (বিজি ০০১) ঢাকা ত্যাগ করে। এ সমস্যা হওয়ার কারণে বিমানের লন্ডনগামী এই সিডিউল ফ্লাইটকে (বিজি ০০১) যাত্রাপথ পরিবর্তন করে আখশাবাদে প্রেরণ করা হয় এবং যাত্রীসহ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে সেখানে অবতরণ করে।এসময় আখশাবাদে প্রধানমন্ত্রীকে বহনের জন্য দুটো বিমানই প্রস্তুত ছিল। তখন প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয় বিমান প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী যে বিমানে এসেছেন সেই বিমানেই তিনি যাওয়ার কথা বলেন। তিনি যদি সেই বিমানে না গিয়ে লন্ডনগামী  বিমানে যেতেন তাহলে আরও চার ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগতো।কারণ প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান থেকে সব কিছু পরের বিমানে নিয়ে প্রস্তুত হতে সময় লাগতো। যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ০৬ টা ৩৭ মিনিটে আখশাবাদ থেকে যাত্রা করে বুদাপেষ্টে অবতণ করে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট  পরে বুদাপেষ্টে অবতণ করে।   লন্ডন ফ্লাইটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৩ ঘণ্টা সময় পরে  আখশাবাদ থেকে ফের যাত্রা করে বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছে।

বিমানের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি বুদাপেষ্ট থেকে আবুধাবী হয়ে চট্টগ্রামে আসে, এর পর ঢাকায় ফেরে।বিমানটির পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ইসমাইল ও আমিনুল।

জানা গেছে, এ ঘটনায় সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং  বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ত্রুটি নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অসন্তোষের মুখে পড়েছেন বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। সোমবার জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের সুপারিশ করছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদীয় কমিটি গভীরভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার সময়ে রানওয়েতে সমস্যা হয়েছিল। বৈঠকে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, সেই ঘটনার যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?  তারা জানিয়েছে, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, যে ধরনের ইরেসপনসিবল বিহেবিয়ার করা হয়েছে তাতে আরও শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল।’

এদিকে বিমানের জেনারেল ম্যানেজার শাকিল মেরাজ বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি উড্ডয়নের ২৪ ঘন্টা আগে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসএসএফ  ছাড়াও পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্ডন করে রাখেন। সেই বিমানটি উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত মেকানিক্যাল, টেকনিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং চেকের জন্য যারা যারা বিমানটিতে কাজ করবেন, তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। রেজিস্টার খাতায় এন্ট্রি করে তারপর তারা কাজ করেন। বিমানটি  যারা চালাবেন অর্থাৎ ক্যাপ্টেন তাদেরও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই বিমানটির সব ধরনের চেক করা হয়।এখন কেন যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে, এটি তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক এমডি মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, `ভিভিআইপি ফ্লাইটের আগে বিশেষ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকে বিমানটি। তাদের তত্ত্বাবধানে থেকেই সকল রকমের চেকের পর বিমান উড্ডয়ন করে। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি যেকোনও সময় হতে পারে। তবে পাইলট বিষয়টি ধরতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভিভিআইপি ফ্লাইটে কেন এমন হলো, কারও কোনও ত্রুটি  আছে কিনা, তদন্ত কমিটিকে সেটি দেখতে হবে। ‘

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন,  ‘এ ঘটনা কেন ঘটছে, এজন্য তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে  একটি কথা বলা যায়, বিমানের মধ্যে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। এ ঘটনা তার বহির্প্রকাশ। তদন্তের পর জানা যাবে কেন এসব ঘটনা ঘটছে। এটা কি আসলেই তাদের অদক্ষতা,অব্যবস্থাপনা নাকি এরমধ্যে ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনও রহস্য আছে।’

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

3 comments

  1. Kamagra Jelly Review tadapox tadalafil dapoxetine Viagra Aumenta Dimensioni Prezzo Levitra 5 Mg Viagra Rezeptfrei Serios

  2. Propecia Con Como Hacer Commande Cytotec viagra Cialis Opiniones Usuarios Cephalexin And Sunlight Cialis Forum Cialis Pharmacy

  3. 50 Mg Amitriptyline Without Rx Wenn Levitra Nicht Hilft testosterona propecia generico Amoxicillin 500mg Side Effects Levitra 10 Mg Forum Propecia Success Rate Hair Loss Treatment

Leave a Reply

Your email address will not be published.