Home / on-scroll / প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সুরঞ্জিতকে বঙ্গবন্ধু সৃষ্টি করে গেছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সুরঞ্জিতকে বঙ্গবন্ধু সৃষ্টি করে গেছেন

বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা একই সঙ্গে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক সংগ্রাম আমাদের করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিরোধী দলের ভূমিকায় সেখানকার যুগে একাই একশ ছিলেন। তিনি যখন কথা বলতেন বঙ্গবন্ধু সবসময় তাকে উৎসাহিত করতেন। কেউ এতো বলতে পারে না, যে বলতে পারে তাকেই সুযোগ দেয়। এভাবে বলে বলে মনে হয় যেন তাকে সৃষ্টি করে দিয়ে গিয়েছিলেন।’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে রোববার জাতীয় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর সুরঞ্জিতের সম্মানে সংসদ সদস্যদের এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তিনি যেকোনো বিষয়ে বলতে পারতেন। রেফারেন্স দিতে পারতেন। আর একটি বিষয় ছিল তার হাস্য-রসিকতা। অনেক কঠিন বিষয় তিনি হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারতেন। মাঠে বক্তৃতা দেয়ার সময়ও সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার চমৎকার ক্ষমতা তার মধ্যে ছিল। সংসদে বক্তৃতা দেয়ার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সবসময় তাকে উৎসাহিত করতেন। সংবিধান প্রণয়নের সময় অনেক আলাপ আলোচনা সংসদে হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রগতিশীল, অসম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে অত্যন্তপক্ষে একটা অবস্থায় দাঁড় করিয়েছি। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আমরা করেছিলাম। এ আন্দোলনে, সংগ্রামে অনেক জেল-জুলুম আমাদের সহ্য করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের শাসনামলে সামরিক বাহিনী রাতে সুরঞ্জিতের বাসায় ঢুকলে তার ৮-১০ বছরের বাচ্চা ভয়ে চিৎকার শুরু করে। তার বাবাকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য দেখে সেই ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক বছর তাকে চিকিৎসা দিতে হয়েছিল। কানাডায় নেয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক জীবনে এমন অনেক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আহত হয়েছিলেন। অনেক সংগ্রামের সাথী ছিলেন এই সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

তিনি বলেন, আমরা যারা বয়োবৃদ্ধ হচ্ছি তাদের তো চলে যেতেই হবে। তবে নতুন যারা তারা যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারে সেটাই চাই। কারণ একটা আদর্শ নিয়ে, লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আমার সমসাময়িক ও বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছি। একসঙ্গে পার্লামেন্টে ছিলাম। তিনি শুধু পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন না, ছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু তাকে স্নেহ করতেন। পঞ্চদশ সংশোধনীসহ সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনীতে তিনি আমাদের পরামর্শ দিতেন। সংসদ পরিচালনায় তিনি অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করতেন। বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি তাকে কিছুটা ভয়ই পেতো। কেননা তার তীর্যক কণ্ঠ তাদের বিব্রত করতো।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এমএ মান্নান বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বয়সে আমার প্রায় সমসাময়িক। কিন্তু রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তিনি আমার থেকে যোজন যোজন দূরত্বে ছিলেন।

মাগরিবের নামাজের বিরতি পর্যন্ত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ড. আব্দুর রাজ্জাক, রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, সাবেক ডেপুটি স্পিকার মীর শওকত আলী, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, ডা. রুস্তম আলী ফরাজি, অধ্যাপক আলী আশরাফ, সাবেক চিফ হুইপ আবদুস শহিদ খান, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মৃণাল কান্তি দাস, হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন, আব্দুল মজিদ খান, মুহিবুর রহমান মানিক, পীর ফজলুর রহমান ও মঈনউদ্দিন খান বাদল।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.