Home / জাতীয় / বাবুলের ওপর ক্ষুব্ধ শ্বশুর

বাবুলের ওপর ক্ষুব্ধ শ্বশুর

মাহমুদা খানম মিতু খুন হওয়ার পরও তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। এমনকি বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ উঠলেও তাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন শ্বশুর (পুলিশের সাবেক পরিদর্শক) মোশাররফ হোসেন।

কিন্তু গত সপ্তাহের শেষ দিকে হঠাৎ ওই উষ্ণতায় ফাটল ধরে। মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে এসে বাবুল আক্তারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন শ্বশুর-শাশুড়ি। তারা গণমাধ্যমেও কড়া কথা বলেন। এরপর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক শীতল হতে শুরু করে। কেন এমন হলো? অনুসন্ধানে নেমে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

সম্পর্ক অবনতির বিষয়ে বাবুল আক্তারের শাশুড়ি শাহেদা মোশাররফ বলেন, ‘চট্টগ্রামে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে আসার পর থেকে বাবুলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। বাবুল এখন আমাদের ফোনও করে না। ছেলেসন্তানকে আমাদের কাছে আসতেও দিচ্ছে না।’

এ বিষেয় বাবুল আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাবুল আক্তারের এক আত্মীয় বলেন, মিতুর দাফন নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যকার সম্পর্কে প্রথম ফাটল দেখা দেয়। ব্যাপারটি তীব্র হয়ে ওঠে বাবুলকে আবার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করে। শ্বশুর-শাশুড়ি চাইছিলেন তাদের এক আত্মীয়াকে বাবুল যেন বিয়ে করেন। কিন্তু বাবুল এতে রাজি হননি।

আত্মীয়ের মেয়েকে বাবুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ প্রসঙ্গে শাহেদা মোশাররফ বলেন, ‘এখন তো কোনো আত্মীয়কে বাবুলের সঙ্গে বিয়ে দেবই না, এমনকি বাড়ির চাকরানীকেও ওর সঙ্গে বিয়ে দিতে আমরা রাজি নই। ’

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিতু খুনের পর ছয় মাসেরও বেশি সময় বাবুল তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের বাসায় অবস্থান করেছিলেন। এ সময় দুই সন্তান নিয়ে শ্বশুরের বাসায় পাকাপাকি বসবাস করার জন্যও বাবুলকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু বাবুল তাতে সাড়া না দিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। কয়েক মাস পর নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে বাবুলকে ফের বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় শ্বশুরবাড়ি। সম্পর্কে বাবুলের শালি, এমন একজনকে পাত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু বাবুল দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে নারাজ।

এ নিয়ে চলছে দুই পক্ষে মন কষাকষি। এর আগেও দুই পরিবারের মধ্যে মৃদু মনোমালিন্য হয়। বাবুল আক্তারের পরিবার চাইছিল মিতুকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দাফন করতে। কিন্তু মিতুর পিত্রালয় এতে বাধা দেয়। পরে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শেষাবধি শীর্ষ এক পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মিতুকে ঢাকায় দাফন করা হয়।

এ ছাড়া মিতু খুন হওয়ার দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ছুটে আসেন মিতুর মা, বোন এবং চাচা-চাচি। তারা লাশ নিয়ে ঢাকা আসার সময় আলমারি ভেঙে টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যান। এ ছাড়া তারা মাঝে একবার মিলাদ পড়ানোর কথা বলে বাবুল আক্তারের চট্টগ্রামের বাসা থেকে আরেকটা আলমারি ভেঙে আরও কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যান। এসব কারণে বাবুল আক্তার শ্বশুরবাড়ির ওপর অসন্তুষ্ট। এতে সৃষ্ট দূরত্বের মধ্যেই গত ডিসেম্বরে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবুল আক্তার তাকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দেওয়া বাসায় ওঠেন। এখন তিনি দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ওই বাসাতেই বাস করছেন।

বাসা থেকে মালামাল আনার বিষয়ে শাহেদা মোশাররফ বলেন, ‘আমরা তো আমার মেয়ের জিনিসপত্রই এনেছি। ’ গত বছর ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.