Home / on-scroll / মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আগেই তৎপর সিন্ডিকেট

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আগেই তৎপর সিন্ডিকেট

sb_pবাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও এখনো শ্রমিক নিতে শুরু করেনি মালয়েশিয়া। অথচ শ্রমিক পাঠানোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিকারকরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে এরই মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে তৈরি করেছে একটি সিন্ডিকেট। এর সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বায়রার বর্তমান কমিটির।

এ নিয়ে বায়রার একটি পক্ষ সোমবার (১০ অক্টেবর) সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও অনিবার্যকারণবশত তা বাতিল করা হয়েছে।

এই পক্ষের অভিযোগ, যে পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর চেষ্টা চলছে, তাতে সব জনশক্তি রফতানিকারকদের সমান সুযোগ থাকছে না। মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির সুযোগ পাচ্ছে।

এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তিও করেছে তারা। এর ফলে দেশটিতে শ্রমিক যাওয়ার খরচ সরকার নির্ধারিত ৩৭ হাজার টাকার পরিবর্তে কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে তাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বায়রার ক্ষমতাসীন কমিটি। সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছে না সরকারও, যেকোন পদ্ধতিতে শ্রমিক পাঠানোতেই মনযোগ।

নানা কারণে চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারিভাবে (জিটুজি) শ্রমিক রফতানির চুক্তি হলেও, ওই চুক্তির আওতায় তিন বছরে মাত্র ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পায়। পরে সাগরপথে মানবপাচার বাড়লে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উপকূলে অসংখ্য বিদেশগামীদের গণকবর মেলে।

এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার পরে আবারও বেসরকারিভাবে বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মী নিতে রাজি হয় মালয়েশিয়া। সেবার মালয়েশিয়ার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাহিদ হামিদি বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরেই মূলতঃ দু’দেশের কিছু ব্যবসায়ী মিলে সিন্ডেকেট তৈরি করে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশীয় নাগরিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজমি খালিদ, শ্রম বিভাগের সাবেক পরিচালক টেংকু ওমরসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী মিলে সিনারফ্ল্যাক্স নামে অনলাইন পদ্ধতিতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করে। অপরদিকে ব্যবসায়ী মালয়েশীয় নাগরিক আবু হানিফকে তাদের বৈদেশিক প্রতিনিধি মনোনীত করে বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাসারের নেতৃত্বে কিছু জনশক্তি রফতানিকারক কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কাজ পায় আমিনের কোম্পানি।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জিটুজি প্লাস (সরকারি ও বেসরকারিভাবে) পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দু’দেশের সরকার সমঝোতা স্মারক সই করে। এরপর ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই শ্রমিক না নেওয়ার ঘোষণা দেন দেশটির বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদি। তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আবারও সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটি।

এদিকে আবারও আমিনের কোম্পানির মাধ্যমে শ্রমিক রফতানির বিষয়টি এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বায়রার বর্তমান কমিটির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে সাবেক সভাপতি আবুল বাসারের অনুসারীরা। সোমবার হোটেল পূর্বানীতে এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলেও শেষমেষ তা বাতিল করেন।

বায়রার মহাসচিব বর্তমান রুহুল আমি স্বপন বলেন, একটি পক্ষ বাজার উন্মুক্ত হওয়ার আগেই তা সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাচ্ছে বলে হা-হুতাশ করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা বায়রার বক্তব্য নয়। আমরা চাই বাজারটিতে আগে শ্রমিক যাওয়া শুরু হোক।

অন্যদিকে সাবেক সভাপতি আবুল বাশার বলেন, বায়রার বর্তমান কমিটি শুধু নিজেরোই ব্যবসা করতে চাইছেন। অথচ বায়রার সদস্য সংখ্যা প্রায় ১২শ। এর সিংহভাগই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। বায়রার বর্তমান কমিটির সদস্যরা এ সিন্ডিকেটের অংশ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা প্রসঙ্গে আবুল বাসার বলেন, আমাদের অন্যতম একজন সংগঠক দেশের বাইরে থাকায় আপাতত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। তবে আমরা চাই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর আগেই সিন্ডিকেট ভেঙে যাক। সব ব্যবসায়ী শ্রমিক পাঠানোর ‍সুযোগ পাক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা নির্দিষ্ট কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করে না। আমরা শুধু মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করতে চাই। এ বিষয়ে আলাপ চলছে।

দেশটি আপাতত নির্মাণ, বনায়ন ও উৎপাদন খাতে বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে বলেও জানান তিনি।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …