Home / আন্তর্জাতিক / মুসলিম নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল

মুসলিম নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল

সাত মুসলিম দেশের বিমানযাত্রীদের ওপর নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আদালতে সাময়িকভাবে স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ওয়াশিংটন আদালত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সাময়িক ভাবে স্থগিত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আপিল করে মার্কিন বিচার বিভাগ।

গতকাল আদালতের রায়কে এক টুইট বার্তায় ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যায়িত করে ওই রায় উল্টে দেবার সংকল্পও করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিয়াটলের এক আদালতের বিচারক জন রবার্টস তার রায়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে মার্কিন সংবিধানের লংঘন বলে আখ্যায়িত করে সারা যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী ওই আদেশের কার্যকারিতা ঠেকিয়ে দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বার্তায় ফেডারেল বিচারককে ‘তথাকথিত’ বিচারপতি বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘তার রুলিংএর ফলে দেশের হাত থেকে আইন প্রয়োগের ক্ষমতাকেই কার্যত কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই হাস্যকর রায় উল্টে দেয়া হবে।’

আরেকটি টুইটে ট্রাম্প বলেন, যখন একটা দেশ নিরাপত্তার কারণে কে ঢুকতে বা বেরোতে পারবে তা ঠিক করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন এটা এক বিরাট সমস্যা্।

তবে আদালতের ওই রায়ের পরেই মার্কিন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিমান সংস্থাগুলোকে জানিয়েছে, যেনো ওই সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে উঠতে দেয়া হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ওই সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইটে উঠতে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, গেল সপ্তাহে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া ও ইয়েমেন এই সাত মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ট্রাম্প।

গতকাল সিয়াটলের এক বিচারক ওই আদেশটি সাময়িকভাবে আটকে দেন। ওই বিচারপতি তার আদেশে বলেন, ‘মার্কিন সংবিধানে কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাত দেখানো নিষিদ্ধ করে যে ধারা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আদেশ তার লংঘন।’

ট্রাম্পের সরকার এ আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে আদালতে আপিল করে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, প্রশাসন মনে করে যে এ পদক্ষেপ যথাযথ এবং আইনসঙ্গত ছিল এবং দেশের সুরক্ষার জন্যই প্রেসিডেন্ট এ আদেশ দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়। সাত দেশের প্রায় ৬০ হাজার যাত্রীর যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা বাতিল হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিমানবন্দরে বিক্ষোভ হয়।

Check Also

রাখাইন সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ দখলে নিচ্ছে চীন

মিয়ানমারের রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিচ্ছে চীন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর বিষয়ে ইতোমধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.