Home / জাতীয় / রামেক হাসপাতাল নির্মাণে অনিয়ম, তিন সদস্যের কমিটি গঠন

রামেক হাসপাতাল নির্মাণে অনিয়ম, তিন সদস্যের কমিটি গঠন

a158পাঁচ বছর আগে নির্মাণ করা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভবনে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার ভবনটির তৃতীয় তলায় লিফটের সামনে টাইলস উঠে গেলে বাঁশ দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবারও দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় একই স্থানে একই দৃশ্য দেখা গেছে। এখন ভবনের আর কোথাও এমন অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলাম। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগের প্রধান মোসাদ্দেক হোসেনকে। সদস্যসচিব রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম এবং সদস্য রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ মাহমুদ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, ‘লিফটের সামনের ফাঁকা জায়গাটিতেই কেবল বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। আর কোথাও বাঁশ ব্যবহারের সুযোগ নেই। যদিও সেখানে স্টিলের পাত বা লোহার রড ব্যবহার করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করে সেখানে বাঁশ ব্যবহার করা হযেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গতকাল সকাল ১০টার দিকে রামেক হাসপাতালের ওই ভবনে গিয়ে দেখা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় লিফটের সামনে যেখানে টাইলস উঠে বাঁশ দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকে ঢালাই তুলে সেই বাঁশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে লিফটের সামনে প্রায় চার ইঞ্চির মতো জায়গা ফাঁকা হয়েছে। লিফটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবনটির দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলার লিফটের সামনেও একই রকম বাঁশ ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়। শুধু তাই নয়, পাঁচ বছরেই ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, কোথাও কোথাও ফ্লোরের টাইলস উঠে আছে।

গতকাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ দায়েম উদ্দিন বলেন, ‘ভবনে কেন বাঁশ ব্যবহার করা হবে? এটা কি যেনতেন বিষয়?’

ভবনের অন্য দুটি তলায় লিফটের সামনে বাঁশ ব্যবহারের দৃশ্য দেখে চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন দেখছি ভবনে পদে পদে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

হাসপাতালের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাঁশের ছবি নতুন করে যেন আর গণমাধ্যমে না প্রকাশ করা হয় এ জন্য সকালে গণপূর্ত বিভাগের লোকজন গিয়ে বাঁশ সরিয়ে নিয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলাম গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের ডেকে পাঠালে তাঁরা এসে বাঁশ সরানোর ব্যবস্থা করেন।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, রামেক হাসপাতালের চারতলার ওই ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এখনো প্রতিবছর অন্তত অর্ধকোটি টাকা বরাদ্দ আসে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য। কিন্তু সব টাকাই হয় লুটপাট। ভবনটি নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ২০১১-১২ সালে ভবনটি নির্মাণের পর সেটি বুঝে নেন তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক। তিনি ভবনটির নির্মাণকাজের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে অপর দুই নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চক্রবর্তী, এ এন এম গোলাম মোস্তফার সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ চলেছে। কিন্তু ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ফজলুল হকের সময়কালে। নিম্নমানের কাজ হলেও তা দেখভাল না করে ভবনটি বুঝে নেন ফজলুল হক। নির্মাণকাজ করেন মাঠ বিল্ডার্স নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এ নিয়ে ফজলুল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে অপর দুই প্রকৌশলী মিহির চক্রবর্তী ও গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা কাজটি শেষ করে আসতে পারিনি। তাই এ নিয়ে কিছুই বলার নাই।’

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবন তৈরির পরে লিফট লাগানো হয়েছে। এ কারণে লিফটের সামনে কিছু জায়গা ফাঁকা ছিল। ওই ফাঁকা স্থানে দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে বাঁশ ব্যবহার করে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়েছে। এরপর ওই ঢালাইয়ের ওপর টাইলস বসানো হয়েছে। যেহেতু বাঁশ নিয়ে কথা উঠেছে তাই সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

প্রকৌশলী লতিফুল আরো বলেন, ‘বাঁশ ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। সেখানে স্টিলের পাত বা লোহাজাতীয় কিছু ব্যবহার করা যেত। কিন্তু সেটি না করে লিফট বসানোর জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।’ এ সময় লতিফুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ মাহমুদ ও জাহিদ হাসান।

২০১২ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ভবনের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে সেখানে অর্থোপেডিকস, মেডিসিনসহ কয়েকটি ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক শত শত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটি কেন ব্যবহার করা হলো, তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.