Home / আন্তর্জাতিক / লাজুক কিশোরী থেকে আমেরিকার ফার্স্ট লেডি!

লাজুক কিশোরী থেকে আমেরিকার ফার্স্ট লেডি!

a475ট্রাম্প একটা করে জয় পাচ্ছেন, সেই সঙ্গে বাড়ছে স্লোভেনিয়া থেকে আসা এক নারীকে নতুন রূপে দেখার সম্ভাবনা৷ দরিদ্র দেশের সাধারণ কিশোরী থেকে মডেল, তারপর ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ঘরণী৷ এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফার্স্ট লেডি’ও!

স্লোভেনিয়া তখনো যুগোস্লাভিয়ার অংশ, সেখানে তখনো চলছে ‘সমাজতান্ত্রিক শাসন’, সেই সময়েই সেভনিকা নামের ছোট্ট এক শহরে জন্ম মেলানিয়া নাভস-এর৷ ছোটবেলা থেকেই মেলানিয়া খুব লাজুক প্রকৃতির৷

বাবা ভিক্টর নাভস ছিলেন গাড়ির ডিলার৷ মা আমালিয়া কাজ করতেন পোশাক কারখানায়৷ বাড়ির পাশেই ছিল মেলানিয়ার স্কুল৷ কর্মজীবী বাবা-মায়ের কাছে কোনোদিন স্কুল থেকে মেয়ের নামে নালিশ আসেনি৷ বার্তা সংস্থা এপি-র প্রতিবেদকের কাছে কয়েকদিন আগেও মেলানিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সেই স্কুলের সাবেক শিক্ষিকা আর শিক্ষার্থীরা৷ সবার এক কথা, ‘‘বড় ভালো মেয়ে ছিল মেলানিয়া৷ খুব মৃদুভাষী আর ভদ্র মেয়ে৷’’

প্রাথমিক স্কুল পর্ব শেষে স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবিয়ানার এক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে যায় মেলানিয়া৷ সেখানেই তাকে দেখে ফেলে ফটোগ্রাফার স্টেইন জেরকো৷ ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার আকর্ষণীয় ফিগারের অধিকারী কিশোরীটির ছবি তুলে নিতে ভুল করেননি স্টেইন৷ সেভনিকায় থাকতেই মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মেলানিয়া৷ স্টেইনের চোখে পড়ায় স্বপ্ন পূরণে বেশি সময় লাগেনি৷

মাত্র ১৬ বছর বয়সে মডেল হিসেবে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু৷ প্রথমে স্লোভেনিয়ায়, তারপর ইটালির মিলান, ফ্রান্সের প্যারিস হয়ে ১৯৯৬ সালে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে৷ বড় বড় ফ্যাশন হাউসগুলোতে তখন তাঁর খুব চাহিদা৷ ইংরেজি, ইটালিয়ান, ফরাসি এবং জার্মান ভাষা শিখে প্রতিষ্ঠা সহজসাধ্য করার কাজও অনেকটাই সেরে নিয়েছেন ততদিনে৷ ওপরে ফিলাডেলফিয়া স্টাইল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজের ছবির সামনে মেলানিয়া৷

ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় এবং পরিণয়

নিউইয়র্কে প্রথম সাক্ষাতেই মেলানিয়াকে ট্রাম্পের ভালো লেগে যায়৷ নিজের ফোন নাম্বার দিয়ে বলেছিলেন, ‘ফোন করো৷’ মেলানিয়া পাত্তা দেননি৷ পরে ট্রাম্পই আবার ফোন করে দেখা করতে চান৷ সেই দেখার সুবাদেই ১৯৯৬ সালে ২৪ বছরের বড় ট্রাম্পকে বিয়ে করেন মেলানিয়া৷

ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী হলেও মেলানিয়ার কম এবং যৌক্তিক কথা বলার সুনাম রয়েছে৷ স্বামীর নির্বাচনি প্রচারে নেমেও নিজের কথা সুস্পষ্ট যুক্তিতেই বলেছেন৷ ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঢুকতে দেবেন না, মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তেও দেয়াল দাঁড় করাবেন৷ মেলানিয়া মনে করেন, কেউ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে সে সুযোগ রাখা উচিত৷

মেলানিয়া ট্রাম্পই কি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ফার্স্ট লেডি? বিশ্লেষকদের ভুল প্রমাণ করে, নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে এখনো ‘ঠিক’ পথেই এগোচ্ছেন ট্রাম্প৷ মেলানিয়ার ‘ফার্স্ট লেডি’ হওয়া তাই অসম্ভব কিছু নয়৷ যুক্তরাষ্ট্রে এসে মেলানিয়া নাভস থেকে ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে মেলানিয়া ট্রাম্প হয়েছেন৷ ট্রাম্পের হাত ধরে, একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে হোয়াইট হাউসবাসিনীও তিনি হতেই পারেন৷

Check Also

রাখাইন সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ দখলে নিচ্ছে চীন

মিয়ানমারের রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিচ্ছে চীন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর বিষয়ে ইতোমধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.