Home / রাজনিতি / লুই কানের মূল নকশা দেশে, বিএনপিতে উদ্বেগ

লুই কানের মূল নকশা দেশে, বিএনপিতে উদ্বেগ

a623জাতীয় সংসদ ভবনের নকশাবহির্ভুত সব স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হবে-এই কথা একাধিকবার জানিয়েছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে লুই আই কানের মূল নকশা আনানো হয়েছে দেশে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন বিএনপি। কারণ, নকশাবহির্ভুত স্থাপনা সরানো হলে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরও সরে যাবে।

১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থাতে প্রাণ হারান সে সময়ের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে সমাহিত করা হলেও পরে বিএনপি সরকার তার দেহাবশেষ ঢাকায় নিয়ে এসে সংসদ ভবন সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যানে সামহিত করে।

জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন। পরদিন তার মরদেহ চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৭ মাইল দূরে রাঙ্গুনিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাশে পাহাড়ের ঢালুতে দাফন করা হয়। কিন্তু অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীরা ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। আর ক্ষমতাসীন বিএনপির অবস্থান সুসংহত হওয়ার পর জিয়াউর রহমানের দেহাবশেষ ১ জুন নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। সমাহিত করা হয় চন্দ্রিমা উদ্যানে। আর সেখানে যেতে লেকের ওপর স্থাপন করা হয় বেইলি সেতু।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেইলি সেতুটি খুলে নেয়া হয়। তবে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমানের কবরকে ঘিরে নির্মাণ করা হয় সমাধি কমপ্লেক্স। সমাধির পুর্ব ও পশ্চিমে রয়েছে ক্যান্টিন, দক্ষিণে ঝুলন্ত সেতু, উত্তরে মেমোরিয়াল হল ও মসজিদ। ২০০৪ সালে সমাধিতে যেতে ৩৫ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয় ঝুলন্ত সেতু।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের নকশার বাইরে সব স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার কথা জানায়। সরকারের এই অবস্থানের কারণেই জিয়াউর রহমানের সমাধি সেখানে থাকবে কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে বাদানুবাদ কম হয়নি। পরে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলাও হয়। কিন্তু স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশা না থাকায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। আর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কাইভ থেকে পাঠানো নকশাটি বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসে।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, এই নকশা হাতে থাকায় এখন জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেবে সরকার। গত ৬ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন জাতীয় সংসদকে জানান, এই নকশা আনার পর জিয়াউর রহমানের সমাধি সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশায় ওই কমপ্লেক্স এলাকায় কারও সমাধি বা বাসভবনের পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু সেখানে স্বাধীনতাবিরোধী নেতা খান এ সবুরকে কবর দেয়া হয় সংসদ ভবন এলাকাতেই। নির্মাণ করা হয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও।

সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সংসদ ভবনের নকশা বহির্ভূত সব স্থাপনাই সরিয়ে নেয়া হবে। মূল নকশা বাস্তবায় হলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও থাকবে না। প্রয়োজনে সেটাও সরিয়ে নেয়া হবে।

জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি নানা সময় জিয়াউর রহমানের সমাধি সরানোর বিষয়ে সরকারের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানো এবং পরে সরকারের এক বছর পূর্তিতে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে ব্যর্থতার পর সরকারের আপাত শক্তিশালী অবস্থানের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিলে তেমন কিছু করা যাবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। এই অবস্থায় পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া কিছু করার নেই বলেই মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, সরকার তো আমাদের কোনো কথাই শুনছে না। জিয়াউর রহমানের কবর নিয়েও সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাদেরকে কীভাবে ঠেকাবো আমরা?। তবে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে হলেও এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন ওই নেতা।

সকালে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কবর সরানোর মধ্য দিয়ে সরকার জিয়াউর রহমানের নাম মুছে দিতে চাইছে’। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে সরকার। এসব ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’

Check Also

কাদের চাপে ইসলামি ব্যাংকে পরিবর্তন, জানতে চায় বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন বিদেশি ও দেশের চাপে তারা ইসলামী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.