Home / শিক্ষা / ‘শুধু পাঠ্যবইয়ের নয় নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে’

‘শুধু পাঠ্যবইয়ের নয় নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে’

a356নতুন প্রজন্মকে শুধু ক্লাস রুমে পাঠ্য বইয়ের শিক্ষা নিলে হবে না। নৈতিক মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষাও গ্রহণ করতে হবে। সেগুলো সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রয়োগ করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব কথা বলেন।

‘স্কুল পর্যায়ে পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব এবং সম্প্রসারণ কৌশল’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও সুইস ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কনসোর্টিয়ামের পক্ষে কারিতাস বাংলাদেশ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০ শতাংশ। এখন সেটা দেড় থেকে দুই শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে। ঝরে পড়া রোধ করতে এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।“আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে জনগণ এগিয়ে এসে সহযোগিতা করায়। কারণ জনগণ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তবে কিছু শিক্ষক আছে ক্লাসে পড়াতে চান না। বাড়িতে প্রাইভেট পড়ান।”

তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের শিক্ষায় সমতা এসেছে। মেয়ে শিক্ষার্থীর হার প্রাথমিক স্তরে ৫১ শতাংশ, মাধ্যমিক স্তরে ৫৩ শতাংশ, উচ্চশিক্ষায় ৪০ শতাংশ রয়েছে। দেশে সব ধরনের পেশায় ছেলেদের মত মেয়েরাও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে।

নাহিদ বলেন, জীবনের চারপাশের জগতটাকে চিনতে না পারলে সামনে এগোনো যাবে না। ১৯৭০ সালের পর ভারত-পাকিস্তানের তুলনায় দেশের স্যানিটেশন ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।

“সকল প্রকার স্বাস্থ্য সচেতনতা ও অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক সচেতন করতে প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুল কাউন্সিল ও মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল ক্যাবিনেট নির্বাচন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ছাত্ররাই নির্বাচিত হচ্ছে। বিরোধীদল হচ্ছে। নিজেরা একেকজন একেকটি দায়িত্ব পালন করছে।”

নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করার জন্য কোয়ালিটি শিক্ষা দিতে কোয়ালিটি টিচার দরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই আছে কোনো চাকরি না পেয়ে শেষ বয়সে এসে শিক্ষকতায় এসেছেন।

“ঋতুস্রাব নিয়ে আলোচনার জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মা সমাবেশ করা হচ্ছে। মায়েদের সঙ্গে শিক্ষিকারা এসব নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখান থেকে ছাত্রীদের বিষয়টি নিয়ে অবগত করা হচ্ছে।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঋতুস্রাব সর্ম্পকে জ্ঞান না থাকায় অনেকের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কর্মকর্তারা গ্রামে গ্রামে কথা বলেছেন। সেখানে অভিভাবকরা প্রথমে এগুলো শুনতেই চাননি। পরে অনেক বুঝিয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

“মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার কারিকুলাম উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। তবে আমাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ আমরা শিক্ষার্থীদের কাঁধে বইয়ের বোঝা দিয়ে জীবন নষ্ট করে ফেলছি। এজন্য ক্লাস সিক্সের বই কমানোর চেষ্টা করছি। খুব তাড়াতাড়ি এটি সম্ভব হবে।”

শিক্ষার বড় সংকট শিক্ষক। আর বড় চ্যালেঞ্জ মান উন্নয়ন উল্লেখ করে মন্ত্রী শিক্ষকদের ভালোভাবে পড়ানোর আহবান জানান।

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন কারিতাস বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি অতুল সরকার, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সারফুদ্দিন আহম্মেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ওয়ালী উল্লাহ প্রমুখ।

Check Also

রুয়েট উপাচার্য ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.