Home / on-scroll / শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি হামলার শঙ্কা

শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি হামলার শঙ্কা

a254রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতর (এনএসআই)। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এনএসআই  এ সুপারিশ করে।

প্রতিবেদনের ভূমিকায় বলা হয়, বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বিএসএমএমইউ একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশি-বিদেশি অনেক চিকিৎসক ছাত্রছাত্রী চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে। সম্প্রতি জঙ্গি হামলায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ বিদেশি নাগরিক ও সাধারণ মানুষকে হত্যার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। জঙ্গি গোষ্ঠী আরও হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। জঙ্গিদের হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বা একাধিক স্বার্থান্বেষী মহল ও নিষিদ্ধ ঘোষিত একাধিক জঙ্গি সংগঠন গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানী ঘটিয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে কল্যাণপুরে বন্দুকযুদ্ধে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়াসহ জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গি সংগঠনগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই জেলহাজতে আটক আছে।

বিশেষ করে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আনসার আল ইসলাম) ও আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট নামে সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মী জেল হাজতে রয়েছে। জঙ্গি সংগঠনগুলো ধর্মের নামে ব্লগার হত্যা অব্যাহত রেখেছে। তারা গুলশানে ইতালির নাগরিক এবং রংপুরে জাপানি নাগরিককে হত্যা করেছে। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যেই স্বার্থান্বেষী মহল ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো বিদেশি নাগরিক, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার ওপর হামলা করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় যাদুঘরের বিপরীতে শাহবাগ মোড় সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক ভবন, যার দ্বিতীয় তলা থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হল। হলে অবস্থানরত ছাত্রদের জন্য নির্দিষ্ট কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। বহিরাগত যে কেউ বিনা বাধায় হলে প্রবেশ করতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থারত ছাত্রছাত্রীদের কারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। বিরাজমান এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ আবাসিক হলসমূহে যেকোনও ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ ছাত্রদের আবাসিক হলসমূহে অধিকতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বিএসএমএমইউ’র প্রবেশ পথেগুলোয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আর্চওয়ে গেট স্থাপন এবং সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনা করা, হ্যান্ড মেটাল দিয়ে আগত ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্য পৃথক গেটের ব্যবস্থা করা, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বিদেশি ছাত্রদের আবাসিক হলে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা, সবশেষে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিরাপত্তায় গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা ২৪ ঘন্টা পালা করে প্রবেশ পথে ডিউটি করেন। ক্যাম্পাসে পুলিশের কোনও সদস্য নাই। তবে বিশ্বদ্যিালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রিজন সেলের নিরাপত্তায় ২৪ ঘন্টা পালা করে ডিএমপির সশস্ত্র সাত জন পলিশ সদস্য ডিউটি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে এক জন পিসি ও ছয় জন এপিসিসহ মোট ২১৯ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। তাদের কাছে ১০টি শর্টগান ও ১০টি রাইফেল আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত আইপি ও সিসি ক্যামেরাসহ মোট ১৩৪টি ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি অচল। ৫৪টি আইপি ক্যামেরা বারডেমের বিপরীতে ভিসিভবন সংলগ্ন গেট, ভিসি, প্রোভিসি, প্রক্টরের অফিস কক্ষের সামনে বি ব্লকের নিচতলা, বটতলা এবং এ ব্লকের অডিটরিয়ামের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৮০টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে বি ব্লকের বর্ধিতাংশে বেসিক সায়েন্স ভবনে ১২টি, এ ব্লকের ভবনে ১৬টি, ২টি বর্হিবিভাগের আশপাশে ২৬টি করে মোট ৫৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিভাগ এসব সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করে থাকে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান জানিয়েছেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত রোগী ও রোগীর সঙ্গে আগত আত্মীয়স্বজন, চিকিৎসক, ছাত্র, ছাত্রী, শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের নিরাপত্তা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সিসি টিভি, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরসহ আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। সার্বক্ষণিক আমাদের মনিটরিং ব্যবস্থাও চলছে। প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেব।’ তিনি জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পুরো এলাকা আরও ৩ শ’ আইপি ক্যামেরার অধীনে আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

এনএসআই’র প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কোর্সে বিদেশিসহ ২ হাজার ৯৫৬ জন ছাত্রছাত্রী অধ্যায়ন করছে। এরমধ্যে নেপালের ২২৮ জন, ভুটানের ১৪ জন, মালদ্বীপের ১০ জন, ভারতের সাত জন, ফিলিস্তিনের এক জন, ইরানের এক জন এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অষ্ট্রেলিয়ার এক জন নাগরিক রয়েছেন। শাহবাগ মোড়সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক ভবনের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য ব্যবহৃত আবাসিক হলে ২৭৭ জন ছাত্রছাত্রী অবস্থান করেন। এদের মধ্যে বিদেশি এক জন ছাত্র ও ছয় জন ছাত্রী রয়েছেন। বাকি বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক হলে এবং কিছু সংখ্যক ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকেন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ই ব্লকে নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ ছাত্রাবাস রয়েছে।

এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘সারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা বিধানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সারা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটর করছেন। দেশের বড় বড় স্থাপনার নিরাপত্তা রক্ষায়ও কাজ করছেন। সরকারের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। যেকোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্ষম।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.