Home / on-scroll / সরকারী প্রাথমিকের শিক্ষক হয়েও তাঁরা এখনো বেসরকারি

সরকারী প্রাথমিকের শিক্ষক হয়েও তাঁরা এখনো বেসরকারি

a109দ্বিতীয় ধাপে জাতীয়করণ করা সারা দেশের ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষকের চাকরি গত তিন বছরেও সরকারি হয়নি। শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অবশ্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা গত সোমবার বলেন, মামলা-মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষকদের সরকারি করার কাজটা দেরি হয়েছে। এখন পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পদ সৃষ্টির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। এখন বিদেশে সফররত প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান দেশে ফিরলে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসব শিক্ষকের চাকরি সরকারীকরণের আদেশ জারি করা হবে। পাশাপাশি জাতীয়করণ করা ৫৪৯টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিও সরকারীকরণের আদেশ জারি করা হবে। এ নিয়ে শিক্ষকদের আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সারা দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন, যা তিন ধাপে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ২২ হাজার ৯৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক লাখ শিক্ষক অনেক আগেই জাতীয়করণ হয়ে সরকারি সব সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের বিদ্যালয় নিয়ে শুরু হয় ঢিলেমি। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আগেও সরকার থেকে কোনো ভাতা পেতেন না। ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর দ্বিতীয় ধাপের ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে গেজেট জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু এরপর শিক্ষকদের চাকরি সরকারি করা নিয়ে শুরু হয় নতুন জটিলতা। গত বছরের মে মাসে ওই সব বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়মে শিক্ষকদের পদও সৃষ্টি করা হয়। এরপর ভুলত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে গত জুনে শিক্ষকদের খসড়াও প্রকাশ করা হয়।
নীলফামারী ও কুষ্টিয়ার ভুক্তভোগী দুজন শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারি হওয়ায় তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সরকারি না হওয়ায় এখন খুশির বদলে হতাশায় ভুগছেন।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম খান এসব বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকের কাগজপত্রে বিভিন্ন ভুল-ত্রুটির কথা উল্লেখ করে রোববার বলেন, এখনো ৬২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগের শুনানি চলছে। এ জন্য একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা হবে। সবার গেজেট একসঙ্গে করলেই ভালো হয়, সেই চেষ্টা চলছে। শিগগির এটি হবে।
তবে ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, এই ৬২টি বিদ্যালয়ের জন্য সবার বিষয়টি কেন আটকে রাখা হবে? যেসব বিদ্যালয় নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সেগুলোর শিক্ষকদের গেজেট আগে জারি করলেই সমস্যা কমে যায়।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.