Home / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / সেলফোনে আসক্তি? মুক্তির উপায় আপনার হাতের মুঠোয়

সেলফোনে আসক্তি? মুক্তির উপায় আপনার হাতের মুঠোয়

a452প্রযুক্তিবহুল জীবন যাপনের কারণে এখন মাত্র পাঁচমিনিটের জন্যও অবসর পাওয়া সম্ভব হয় না। আর আমি শান্তিতে আছি বলাটাও এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন “অন” এবং “অফ” বা গণ এবং ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে আর কোনো ফারাক থাকছে না। আমরা বিষয়টি বুঝতে পারি বা না পারি বাস্তবতা হলো আমাদের আর অবসর নেই।
এমনকি ঘরের ভেতরেও সেলফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের মাধ্যমে দুনিয়াটা যেন বন্যা হয়ে প্রবেশ করে। আর আমরাও যেন সবসময়ই ফোন কলের অপেক্ষায় থাকি। আমরা আসলে সারাক্ষণই এখন অন মুডে থাকি। ফলে আমাদের স্নায়বিক পদ্ধতি অনবরত যুদ্ধ বা ওড়ার দশায় আটকে পড়েছে। আমরা সারাক্ষণই ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত এবং উদ্ভ্রান্ত হয়ে থাকি। কোথাও যেন একটু পরিত্রাণের সুযোগ নেই।
নির্মম পরিহাস হলো কম্পিউটারেরও সচল থাকার জন্য দিনে অন্তত একবার হলেও বন্ধ থাকতে হয়। অথচ আমরা মানুষেরা ভাবছি আমরা বুঝি বিরতিহীনভাবে কাজ করে যেতে পরব।
গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিটি গড়পড়তা মানুষ দিনে তার স্মার্টফোন চেক করে ১৯০ বার। প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফলে আমরা এখন সারাক্ষণই অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বিনোদনের মধ্যে থাকতে সক্ষম হচ্ছি। কিন্তু এর ফলে আমরা বর্তমান ও নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি।
প্রযুক্তিবহুল জীবনের নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সচেতন না হয়ে বরং আমরা এর মধ্যেই ডুবে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। প্রযুক্তির আসক্তিও অন্য যে কোনো নেশায় আসক্তির মতো। প্রযুক্তিবহুল যুগের আগে লোকে যখন কোনো নেশায় আসক্ত হত তখন সমাজ থেকে তাকে বের করে দেওয়া হত। কিন্তু এখন আমরা সমাজের সকলেই প্রযুক্তির নেশায় আসক্ত। আমরা সকলেই একটি আসক্ত ক্লাবের অংশ। ফলে এই আসক্তি নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই।
সত্যি বলতে কি প্রযুক্তির কারণে এটা ঘটেনি। বরং প্রযুক্তি আমাদের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে আদিম দিকটি উস্কে দিয়েছে। প্রযুক্তি আমাদের সরীসৃপসুলভ সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলেছে। এই সত্ত্বাটি হলো আপনার ভেতরের মাত্র পাঁচ বছরের শিশুটি। সে যা কিছু চায় তা তাৎক্ষণিকভাবেই চায়। এমনকি সে যা চাচ্ছে তা তার জন্য ক্ষতিকর নাকি উপকারি তাও বিচার-বিবেচনা করে দেখে না। আর আমাদের সকলের মধ্যেই এমন একটি অবুঝ শিশু বাস করে।
ফলে আমরা এখন প্রযুক্তির হাতেই আত্মসমর্পন করেছি। প্রযুক্তির হাতেই আমরা নিজেদেরকে তা কীভাবে আমাদের ব্যবহার করবে তার ভার অর্পণ করেছি। প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং আমরা নিজেরাই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়েছি।
তবে সুসংবাদটি হলো অভ্যাসের পরিবর্তন করে আমরা প্রযুক্তির সঙ্গে একটি স্বাস্থকর সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি। যেমন বাসে ভিডিও গেম না খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় সেলফোন থেকে দূরে থাকা, মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ফোন চেক না করা, সামাজিক গণমাধ্যমে প্রতিটি চিন্তা পোস্ট না করা এবং যখন খুশি তখন সেলফি না তোলা। অভ্যাসের এই পরিবর্তনগুলো সাধন করতে পারলে আমরা যেভাবে বাঁচি বা অনুভব করি তা আমূল বদলে যাবে।
প্রযুক্তি আমাদের পক্ষ হয়ে মনোরম কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। বরং আমাদের নিজেদেরকেই নিজেদের সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করতে হবে এবং নিজেদের আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে হবে। একমাত্র এই একটি উপায়েই আমরা স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে আসতে পারি। আপনি শুরু করুন তাহলেই পরিবর্তনটি শুরু হয়ে যাবে। সূত্র: ফক্স নিউজ

Check Also

থাকছে না আর ইয়াহু, নতুন নাম আলতাবা

সার্চ ইঞ্জিন, ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার এবং ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘ইয়াহু ইনকর্পোরেটেড’ তার নাম পাল্টে হয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.