Home / on-scroll / ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা, চলছে ফাইল চালাচালি

১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা, চলছে ফাইল চালাচালি

primary-sm20161013092712দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সহসাই গতি পাচ্ছে না। প্রধান শিক্ষকের পদ মর্যাদা একধাপ উন্নীত হওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে এখন তিন দপ্তরে ঘুরছে ফাইল।

সহকারী থেকে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলে ব্যাঘাত ঘটছে পাঠদান। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত সহকারী শিক্ষকরা দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘ সময়। পদোন্নতির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষকদের ৬৫ শতাংশই প্রধান শিক্ষক হন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, প্রধান শিক্ষকদের পদ তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করায় এখন তারা কর্মকর্তা, আর তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

এ প্রক্রিয়ায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির ফাইল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে পিএসসিতে যাবে। কিন্তু গত প্রায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলছে ফাইল চালাচালি।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ৬/৭ মাস আগে তারা সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠান। কিন্তু ফাইলে ত্রুটি থাকায় আবারও ফেরত পাঠানো হয়। পরে কিছুদিন আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চূড়ান্ত ফাইল। এখন মন্ত্রণালয় সচিবালয়ে ওই অধিদপ্তরের জনবল দিয়ে সেই ফাইল যাচাই-বাছাই করছে।

সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য চাকরির মেয়াদ, প্রশিক্ষণ, এসিআর এবং তিনি গ্রাজুয়েট কিনা- এগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। ৬৪ জেলার প্রার্থীদের এ প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি কেউ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, কেবলই যাচাই-বাছাই শুরু হলো। শেষ হতে বেশ সময় লাগবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রায় আট বছর ধরে বড় ধরনের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। তবে ২০১২ সালে উপজেলাভিত্তিক কিছু পদোন্নতি হলেও প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পদোন্নতি দেওয়া আর হয়নি। আর ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার।

এদিকে, দীর্ঘ সময় পদোন্নতি না হওয়ায় পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকরাই প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

প্রধান শিক্ষকের পদ আগে তৃতীয় শ্রেণিতে থাকায় সহকারী শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পদোন্নতির কাজটি শেষ করতো বলে জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আলমগীর।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এখন পিএসসির মাধ্যমে পদোন্নতি হবে। সহকারী শিক্ষকদের ফাইল মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর পিএসসিতে যাবে। পিএসসি অনুমোদন দিলে পদোন্নতি দেওয়া হবে

তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে কতোদিন সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়।

Check Also

হাসপাতালে টাকা দিতে না পারায় খোলা স্থানে সন্তান প্রসব

হাসপাতাল চত্বরে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছেন এই নারী। অনেকেই দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.